নিজস্ব প্রতিনিধি : অতীতে কোনো ছাত্রসংগঠনের সাথে যুক্ত থাকলেও এখন জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদানে কোনো বাধা নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, অতীতে কেউ ছাত্রদল, ছাত্রশিবির কিংবা ছাত্রলীগ করেছে এটি আমাদের কাছে এখন আর মুখ্য বিষয় নয়। এনসিপিতে যোগদানের পর তারা কেবল দলের সংগঠক ও নেতাকর্মী হিসেবেই পরিচয় বহন করবেন।
গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই অভ্যন্তরীণ কোন্দল, গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের পদত্যাগ এবং জনসমর্থন হারানোর শঙ্কায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দলটি এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিলুপ্তির হাত থেকে দলকে বাঁচাতে এনসিপি নেতৃত্ব এখন সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীদের দলে ভেড়াতে মরিয়া। এ লক্ষ্যেই তারা ছাত্রলীগের অতীত পরিচয় মুছে এনসিপিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে নতুন এক ‘টোপ’ দিচ্ছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নেতাদের দলে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করেন, নতুন রাজনৈতিক ধারায় যারা এনসিপির আদর্শ ও মূল্যবোধকে ধারণ করবেন, তাদের সবাইকে স্বাগত জানানো হবে।
এনসিপির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যারা দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘দায় ও দরদের রাজনীতি’ প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাদের নিয়েই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা হবে। সব মতাদর্শের মানুষকে নিয়ে এই রাজনৈতিক প্লাটফর্মকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
নতুন যোগ দেওয়া নেতাদের উদ্দেশ্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, তারা আসলে এতদিন আমাদের সঙ্গেই ছিলেন, কেবল প্ল্যাটফর্ম আলাদা ছিল। আজকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের সঙ্গে একত্রিত হলেন। তিনি সারাদেশের তরুণসহ সকল বয়সীদের প্রতি আহ্বান জানান, এনসিপির হাতকে শক্তিশালী করতে এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অংশ নিতে দলের পতাকাতলে আসার জন্য।
তবে দলের স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির দরজা চিরতরে বন্ধ থাকবে।
