নিজস্ব প্রতিবেদক
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর গণপরিবহন খাতে ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জোরদার হয়েছে। ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণের পর বাস ও ট্রাক পরিচালনার ব্যয় বেড়েছে বলে দাবি করছেন পরিবহন মালিকরা। এতে দূরপাল্লার বাসভাড়া প্রায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব উঠেছে, যা নিয়ে উদ্বেগে সাধারণ যাত্রীরা।
পরিবহন মালিকদের প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা ভাড়া বাড়িয়ে ৪ টাকা ৫ পয়সা করার কথা বলা হচ্ছে। এতে ভাড়া প্রায় দেড়গুণ থেকে দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। মালিকদের দাবি, শুধু জ্বালানির দাম নয়, ডলার মূল্যবৃদ্ধির কারণে যন্ত্রাংশ ও স্পেয়ার পার্টসের ব্যয়ও ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির একটি সূত্র জানায়, ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশের খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগে থেকেই কিলোমিটারপ্রতি ৩ টাকা ৭৫ পয়সা ভাড়ার একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ ডিজেলের দাম বাড়ার পর সেই প্রস্তাব সমন্বয় করে ৪ টাকা ৫ পয়সা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।
মালিকদের দাবি, শুধু জ্বালানি নয়, টায়ার, ইঞ্জিন অয়েল, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে পরিবহন পরিচালনার ব্যয় অনেক বেড়েছে। ফলে বর্তমান ভাড়ায় বাস চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলে তারা দাবি করেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, মালিকরা বেশি দামে তেল কিনলেও আগের ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে লোকসান বাড়ছে। তার মতে, জ্বালানি মূল্য বাড়লে ভাড়াও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় হওয়া উচিত ছিল।
তবে ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে পরিবহন বিশেষজ্ঞদের। সড়ক, রেল ও নৌপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে বলেন, যাত্রীদের সক্ষমতা বিবেচনা না করে বড় ধরনের ভাড়া বৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, প্রতিটি ব্যয় খাত যাচাই করে স্বচ্ছ হিসাবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান বলেন, মালিকদের প্রস্তাব চূড়ান্ত নয়। বিআরটিএর নির্ধারিত কমিটিতে প্রতিটি ব্যয়ের খাত আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এদিকে প্রস্তাবিত ভাড়া কার্যকর হলে সাধারণ যাত্রীদের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যাত্রীরা বলছেন, নিত্যপণ্যের দামের চাপের মধ্যে নতুন করে বাসভাড়া বাড়লে জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে যাবে।
