নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়া নিয়ে নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই ও এনএসআই-এর প্রধানরা এক পরিকল্পিত কৌশলে তাঁকে প্রথমে তথ্যের ওপর নির্ভরশীল করে তোলেন এবং পরবর্তীতে কৌশলে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন।
৫ আগস্টের সেই নাটকীয় দিনে গণভবনে দায়িত্বে থাকা এসএসএফ কর্মকর্তারাও দিকনির্দেশনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ছিলেন।
ঘটনার দিন দুপুরে উত্তরা এলাকায় হঠাৎ কারফিউ ব্যারিকেড তুলে নেওয়া হয়, যা আন্দোলনকারীদের গণভবন অভিমুখে আসার পথ সুগম করে দেয়। একই সময়ে সেনাপ্রধানের জাতির উদ্দেশে ভাষণের ঘোষণা কার্যত ক্ষমতা পরিবর্তনের বার্তা পরিষ্কার করে দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সহিংস কোটা আন্দোলন মোকাবেলায় রাজনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে সেনাবাহিনীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করা ছিল শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় কৌশলগত ভুল।
৪ আগস্ট রাতে শেখ হাসিনাকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বা টুঙ্গিপাড়ায় সরিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও ৫ আগস্ট পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনে তা বাতিল হয়।
শেষ পর্যন্ত একটি সামরিক বিমানে করে শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা দিল্লির উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পরামর্শে নিরাপত্তার কারণে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই গণভবন, সংসদ ভবন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, সেই সময়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসএসএফ কার্যকর কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি, যার ফলে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ সাময়িকভাবে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির হাতে চলে যায়।
এই প্রশাসনিক শূন্যতার সুযোগে বিচার বিভাগেও ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং প্রধান বিচারপতিসহ একাধিক বিচারককে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।
আইএসপিআর-এর তথ্যমতে, পতনের পর অন্তত ৬২৭ জন ব্যক্তি বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নেন, যাঁদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, বিচারক ও পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুনসহ অনেককে ডিবির হাতে হস্তান্তর করা হয়।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যশোর হয়ে ভারতে চলে যান এবং এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝেই সেনাপ্রধানের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বৈঠকের মধ্য দিয়ে দলটির পুনর্বাসনের পথ খুলে যায়।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রতিবেদনে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ১৬ জুলাই থেকেই ডিজিএফআই ও এনএসআই আন্দোলনকে আরও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল।
বিশেষ করে ডিবি কার্যালয়ে ছয় সমন্বয়ককে আটকে রেখে জোরপূর্বক বিবৃতি নেওয়ার ঘটনাটি পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। সামগ্রিক এই ঘটনাপ্রবাহে সেনাবাহিনীর ‘নির্বাচিত ভূমিকা’ ও প্রশাসনিক শূন্যতাই শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটায়।
