জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু)-কে ব্যক্তিগত ও দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থীরা। এই অপতৎপরতা বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে বুধবার (৮ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাকসু সভাপতির কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন তাঁরা।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, জাকসু সাধারণ শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও স্বার্থ রক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান। এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্ল্যাটফর্ম নয়। তবুও সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে, জাকসুর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে একে হীন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা ও প্রত্যাশার মূলে কুঠারাঘাত করছে।
শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ৩টি প্রধান দাবি হলো: ১. জাকসুর নাম, প্যাড, লোগো ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা দলীয় রাজনৈতিক প্রচারণা ও কার্যক্রম অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। ২. ইতিপূর্বে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারী অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ৩. জাকসুর সকল প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে শতভাগ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, জাকসুর মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই দাবিগুলো মেনে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে জাকসুকে বিতর্কিত হওয়া থেকে রক্ষা করবে।
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন—রায়হান (৪৯ ব্যাচ), শরিফুল (৫১ ব্যাচ), ইকরা (৪৯ ব্যাচ), আলিফ (৫১ ব্যাচ), সাদিয়া (৫৩ ব্যাচ), মোঃ রুবেল (৪৯ ব্যাচ) এবং সৌরভ (৫০ ব্যাচ)। জাকসুর অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নীতিমালার লঙ্ঘন নিয়ে ক্যাম্পাসে যখন উত্তেজনা বিরাজ করছে, তখন শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান নতুন মাত্রা যোগ করল।
