নিজস্ব প্রতিবেদক:চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় মেয়ের সামনে নুরুল আজিম প্রকাশ আজম (৪২) নামে এক দর্জিকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
আজ ১০ই জুলাই, শুক্রবার সকালে উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খলিফার অদূরে একটি বিলে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নুরুল আজিম একই এলাকার মৃত ইসলাম মিয়ার ছেলে।
আজিম উগ্রবাদী হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার একজন আওয়ামী লীগ কর্মী বলে জানান স্থানীয়রা। এর জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা তাদের।
নুরুল আজিমের দুই স্ত্রী, দুই কন্যা ও এক পুত্রসন্তান রয়েছে। তার এক স্ত্রী নিজ বাড়িতে থাকলেও অন্য স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকেন। আজিম আগে হাটহাজারী উপজেলা সদরে টেইলার্সের দোকান পরিচালনা করতেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স হিসেবেও কাজ করেছেন।
হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের মেয়ে মোনা আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে একটি বিলে তার বাবা মাছ ধরার জাল পেতেছিলেন। সকাল ৮টার দিকে ওই জালে আটকে থাকা মাছ ধরতে তিনি বিলে যান। মাছ রাখার পাত্র নিয়ে তিনিও বাবার সঙ্গে সেখানে যান।
মোনা জানান, এ সময় স্থানীয় দিদার ও আক্কেল নামে দুই ব্যক্তি সেখানে এসে তার বাবাকে গায়ে পড়ে অহেতুক গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে আক্কেল তার বাবাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। আহতাবস্থায় তার বাবা দৌড়ে পাশের একটি বাড়ির পেছনে চলে গেলে দিদার ধারালো অস্ত্র হাত তাকে ধাওয়া করে পায়ে ও মাথায় উপুর্যপরি কুপিয়ে হত্যা করেন।
খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। কারা এবং কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের আটকে অভিযান চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের একটি পক্ষ এ ঘটনার পেছনে পারিবারিক সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের কথা বলা হলেও অনুসন্ধানে মেলে ভিন্ন তথ্য।
২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর করলে উগ্রবাদী হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা সারাদেশে তাণ্ডব চালায়। সরকারি-বেসিরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেসময় নাশকতার সাথে যুক্ত হেফাজতে ইসলামের উগ্রবাদী কর্মীদের সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন তিনি, যার প্রেক্ষিতে অনেক উগ্রবাদী ধরা পড়ে।
সেই ঘটনার পর থেকে উগ্রবাদীরা তাকে হত্যার জন্য অসংখ্যবার হুমকি-ধমকি দেয়। সুযোগের অপেক্ষায় ছিল বলে স্বজনরা জানান। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উগ্রবাদীরা তার দোকান ভেঙে দেয়। এরপর থেকে তিনি বাড়িতে বসেই দর্জির কাজ করতেন।
স্থানীয়রা জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রকৃত দোষীদের যেন বিচার আওতায় নিয়ে আসা হয়।
হাটহাজারী সার্কেলের সহকারী (অতিরিক্ত) পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, প্রথমে গুলি করে পরে কুপিয়ে নুরুল আজিম নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
Comments
Previous Articleউগ্র মবের তাণ্ডবে ৪টি মন্দির ওহিন্দু পল্লী গুঁড়িয়ে লুটপাট
