নিজস্ব প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার অংশ হিসেবে ওসমান আলী নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যার পর উপজেলার গোলাপনগর এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দ্বারা তিনি চরম নৃশংস হামলার শিকার হন বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। মারাত্মক আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আজ সন্ধ্যার পর ওসমান আলী নিজের মাঠ থেকে মরিচ তুলে একা একা বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি একাকী থাকার সুযোগে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র ক্যাডার তাঁর ওপর অতর্কিত ও আচমকা হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আশপাশের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
ওসমানের স্বজনদের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তাঁদের পুরো পরিবারের ওপর ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এর আগেও কয়েক দফায় তাঁদের বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, ওসমান আলীর দুই ভাই—স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ও সুমন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ‘মিথ্যা’ মামলায় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। দুই ভাই জেলে থাকার পর এবার পরিবারের আরেক সদস্যের ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় পুরো গোলাপনগর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এই বর্বরোচিত হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কি না কিংবা ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।
