দেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ‘নীরব মহামারিতে’ এ পর্যন্ত মোট ১১৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার চরম বিপর্যয়কে ফুটিয়ে তুলছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৭৪ জন শিশু হামে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬১০ জনে।
বর্তমানে দেশের হাসপাতালগুলোতে ৫ হাজার ৪৭০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিভাগভিত্তিক সংক্রমণের তালিকায় ঢাকা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে, যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরপরই রয়েছে চট্টগ্রাম (১৯৫ জন) ও রাজশাহী (১২৪ জন)।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মৃত ১০ জনের মধ্যে দুইজনের হাম নিশ্চিত ছিল এবং বাকি আটজন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৯২৯ জন।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে বলে দাবি করলেও মাঠপর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচির স্থবিরতা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ৫৬টি জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বর্তমানে সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক বছরের টিকাদান ঘাটতির কারণেই আজ শিশুরা গণহারে মৃত্যুর মুখে পড়ছে। জরুরি ভিত্তিতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু না করলে এই মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
