০২৬ সালের এপ্রিলে এসে রাজধানী ঢাকার রাজপথ এখন হাহাকারের প্রতিচ্ছবি। শহীদুল ইসলাম ভোর থেকে পাঁচটি পাম্প ঘুরেছেন, শাহরিয়ার রহমান খিলক্ষেত থেকে বেরিয়ে তিনটি পাম্পেও তেল পাননি।
আবদুল্লাহ আল মামুন ভোর পাঁচটায় লাইনে দাঁড়িয়ে আট ঘণ্টা পরও খালি হাতে ফিরছেন। আসাদগেটের একটি পাম্পে দুপুর ১২টায় ২৩০টি প্রাইভেট কার আর ১৩৮টি মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি এ দৃশ্য এখন নিত্যনৈমিত্তিক।
পাম্প কর্মকর্তাদের মুখে কেবল একটিই বুলি ‘তেল নেই, কখন আসবে জানি না।’ অথচ ওপরমহল থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে জ্বালানি সংকট নেই। মানুষের বাস্তব জীবন আর সরকারের ফাঁকা বুলির এই বিশাল ব্যবধানই এখন দেশের সাধারণ মানুষের বড় যন্ত্রণা। গত সপ্তাহে আত্মীয়ের কাছ থেকে দুই লিটার তেল ধার করে কলেজে যাওয়া এক শিক্ষার্থীর গল্প এই সময়ের এক করুণ রাজনৈতিক দলিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া দেড় বছরের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে পারছে না বর্তমান বিএনপি সরকারও।
১৭ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। বিশৃঙ্খল জ্বালানি অবকাঠামো আর পরিকল্পনার অভাবে সাধারণ মানুষ এখন রাস্তায় গাছের ছায়ায় ঘুমিয়ে তেলের অপেক্ষা করছেন।
জ্বালানি সংকটে পিষ্ট সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস এখন রাজপথে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। শহীদুল ইসলামের সেই আক্ষেপ ‘তেল নিতে এসে ফেঁসে গেছি’আসলে আজ পুরো জাতির মনের কথা।
৫ আগস্টের পর থেকে দেশ এক গভীর অনিশ্চয়তার আবর্তে আটকে গেছে, যার থেকে উত্তরণের পথ এখনো ধোঁয়াশায় ঢাকা
