নিজস্ব প্রতিনিধি
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। পেন্টাগনের শীর্ষ পর্যায়ে চলমান শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে
সেনাবাহিনীর ৪১তম প্রধান হিসেবে জেনারেল জর্জের মেয়াদের আরও এক বছরের বেশি সময় বাকি ছিল। পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে তার দীর্ঘ কয়েক দশকের সেবার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হলেও, তাকে অবিলম্বে অবসরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এই শীর্ষ জেনারেলকে অপসারণের ঘটনা মার্কিন সামরিক ইতিহাসে প্রায় নজিরবিহীন।
জেনারেল জর্জের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ অব স্টাফ জেনারেল ক্রিস্টোফার লানিভ, যিনি আপাতত ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ কেবল সেনাপ্রধানকেই নয়, বরং আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন, জেনারেল ডেভিড হডনে প্রধান, আর্মি ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড ট্রেনিং কমান্ড। মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিন প্রধান, আর্মি চ্যাপলেন কোর।
যদিও পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে জর্জের বিদায়ের কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানায়নি, তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডকে ঘিরে সেনাপ্রধানের সাথে দূরত্ব তৈরির আভাস পাওয়া গিয়েছিল। ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক হেগসেথ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পেন্টাগনকে নতুন করে সাজাতে বিতর্কিত সব পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মদিনে সেনাবাহিনীর ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন নিয়ে বিতর্ক। ট্রাম্প সমর্থক গায়ক কিড রকের বাড়ির পাশে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অ্যাটাক হেলিকপ্টার ওড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত পাইলটদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া আটকে দিয়েছেন হেগসেথ। গত বছর থেকেই পেন্টাগনের নেতৃত্বে অস্থিরতা চলছে। ইতিপূর্বে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের সাবেক চেয়ারম্যান এবং নৌবাহিনীর অপারেশন প্রধানকেও বরখাস্ত করা হয়েছিল।
ইরাক ও আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকারী অভিজ্ঞ পদাতিক কর্মকর্তা র্যান্ডি জর্জ ২০২৩ সালে শীর্ষ পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তার এই আকস্মিক অপসারণ পেন্টাগনের নেতৃত্বের সব স্তরে চলমান অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে যখন মার্কিন ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সৈন্য মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হচ্ছে, তখন এমন পরিবর্তন বাহিনীর মনোবলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
