চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও ময়মনসিংহ হাসপাতাল
দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর প্রধান সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংকট এখন এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও ময়মনসিংহের শীর্ষ হাসপাতালগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
শয্যা না পেয়ে শত শত মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা, এমনকি ওয়ার্ডের বাইরের খোলা জায়গায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ৬৬ শয্যার মেডিসিন ওয়ার্ডে বর্তমানে ২২২ জন রোগী চিকিৎসাধীন, যার অর্থ নির্দিষ্ট শয্যার চেয়ে তিন গুণেরও বেশি রোগী সেখানে গাদাগাদি করে অবস্থান করছে।
দুই হাজার ২০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন হাজার রোগী ভর্তি থাকছে, যাদের একটি বিশাল অংশ মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, মাত্র ৫০০ শয্যার জনবল দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার রোগীর সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
খুলনা ও সিলেটের চিত্র আরও সংকটাপন্ন, যেখানে সাধারণ শয্যার পাশাপাশি আইসিইউর (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) জন্য চলছে তীব্র হাহাকার। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ২৫টি আইসিইউ শয্যা থাকলেও রোগীর চাপের তুলনায় তা নগণ্য।
গুরুতর অসুস্থ অনেক রোগী আইসিইউ শয্যার সিরিয়াল অপেক্ষায় থেকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একইভাবে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৯০০ শয্যার বিপরীতে গতকাল রোগী ছিল দুই হাজার ৭০০ জন। ধারণক্ষমতার তিন গুণ বেশি রোগী সামলাতে গিয়ে চিকিৎসকরা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।
অন্যদিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশুদের ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই। হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত শিশুদের ভিড় এতই বেশি যে, একটি বিছানায় দুই থেকে তিন জন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। সংক্রামক রোগের জন্য পৃথক কর্নার করা হলেও জায়গার অভাবে সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই তাদের অবস্থান করতে হচ্ছে।
জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার এই চক্রে পড়ে বিভাগীয় পর্যায়ের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
