রাজধানীসহ সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ৯ মাস ধরে নিয়মিত এমআর (মিজেলস-রুবেলা) টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় এক বছরের কম বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে। সরকারিভাবে প্রায় দুই কোটি ডোজ টিকা মজুদ থাকলেও জনবল, সিরিঞ্জ ও প্রয়োজনীয় ফান্ডের অভাবে তা শিশুদের প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক জোট ‘গ্যাভি’ গত মাসে দুই কোটি ডোজ টিকা পাঠালেও লজিস্টিক সাপোর্ট ও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবে তা পড়ে আছে। ইপিআই-এর উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানিয়েছেন, বাজেট কাঠামো ও অপারেশনাল প্ল্যান থেকে অর্থ রেভিনিউ খাতে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় সমন্বয়হীনতার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত সিরিঞ্জ এবং মাঠ পর্যায়ে টিকা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে মজুদ থাকা সত্ত্বেও শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তথ্যমতে, দেশের অন্তত ১২টি জেলায় হামের বিস্তার ঘটেছে। এর মধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, পাবনা, চট্টগ্রাম, যশোর ও নাটোরে রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেই এ বছর প্রায় ৫০০ শিশু ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ জন মারা গেছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি মাসে ১০৬ জন ভর্তি হয়েছে এবং ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গত ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জন সরাসরি হামে আক্রান্ত ছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেলে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ভেন্টিলেটরের অভাব ও যান্ত্রিক ত্রুটির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি আগে জানতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক।
আইইডিসিআর-এর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. নিজাম উদ্দিন মনে করেন, টিকাদান কর্মসূচিতে দীর্ঘদিনের ছেদ পড়াই এই মহামারির প্রধান কারণ। মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের আন্দোলন এবং ইপিআই-এর প্রায় ৩৫ শতাংশ পদ শূন্য থাকায় কয়েক লাখ শিশু টিকার নিয়মিত ডোজ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সময়মতো বুস্টার ডোজ না পাওয়ায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি, যার সুযোগ নিচ্ছে হামের ভাইরাস।
