ঈদের ছুটিতে পাহাড় দেখতে গিয়ে মানুষ চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ৩০০ টাকার তেল পাচ্ছে। সেই পাম্পে পাহারা দিচ্ছে সেনাবাহিনী। এই দৃশ্য বাংলাদেশের, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের। আর এই দেশ চালাচ্ছে বিএনপি, যারা ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে একটা ভোটের নাটক সাজিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, যেখানে দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো অংশই নেয়নি, সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায়নি।
খাগড়াছড়ির ঘটনাটা আলাদা করে বলার কারণ আছে। শুধু জ্বালানি সংকট না, এই ঘটনাটা বিএনপি সরকারের পুরো ব্যর্থতার একটা ছোট্ট প্রতিচ্ছবি। ঈদের মতো একটা পরিচিত, পরিকল্পনাযোগ্য উৎসবে যদি একটা পর্যটন এলাকায় তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে এই সরকার আসলে কী পারে সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা খুব স্বাভাবিক। ঈদ প্রতি বছর আসে। পর্যটকরা খাগড়াছড়ি, সাজেকে যায়, এটা নতুন কিছু না। এটার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া রকেট সায়েন্স না।
কিন্তু বিএনপির কাছে এটা সম্ভব হয়নি। কারণটা সহজ। এই দলটা কখনো প্রশাসন চালানোর যোগ্যতা অর্জন করেনি, শুধু ক্ষমতা দখলের কৌশল রপ্ত করেছে। জিয়াউর রহমান সেনাছাউনিতে বসে যে দল বানিয়েছিলেন, সেই দলের ডিএনএতে গণতন্ত্র নেই, জনসেবা নেই, আছে শুধু ক্ষমতার হিসাব।
২০০১ থেকে ২০০৬, সেই মেয়াদের কথা অনেকে মনে রাখেন। সেই সময়ের হাওয়া ভবন, সেই সময়ের দুর্নীতি, সেই সময়ের সন্ত্রাস, সংখ্যালঘু নির্যাতন, সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি। অনেকে ভেবেছিলেন এবার হয়তো একটু ভিন্ন হবে। হয়নি। বরং রেকর্ড ভেঙেছে। সেবার অন্তত পেট্রোল পাম্পে আর্মি পোস্টিং দিতে হয়নি।
জেলা প্রশাসক বলছেন তেলের সংকট নেই, কাগজে কলমে মজুত আছে। চমৎকার। কাগজে কলমে মজুত থাকলে মানুষ চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ায় কেন? কাগজে কলমে মজুত থাকলে আর্মি নামাতে হয় কেন? এই গ্যাপটা, কাগজের বাস্তবতা আর রাস্তার বাস্তবতার এই বিশাল ফাঁকটা, এটাই বিএনপির শাসনের সবচেয়ে পরিচিত বৈশিষ্ট্য।
খুলনা থেকে আসা বাইকার সাজেক যেতে পারেননি তেল না পেয়ে। নবলেশ্বর ত্রিপুরা চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে পেয়েছেন ৩০০ টাকার তেল। এই মানুষগুলোর কাছে বিএনপির মন্ত্রীরা কী জবাব দেবেন? কোনো জবাব নেই। কারণ জবাব দেওয়ার দায় তারা কখনো অনুভব করেননি। জনগণকে ভোট দিয়ে তারা আসেননি, জনগণের কাছে জবাবদিহির প্রশ্নই ওঠে না।
এই মন্ত্রিসভাকে “নামসর্বস্ব” বলা আসলে একটু বেশি সম্মান দেওয়া হয়। এরা হলো ফেব্রুয়ারির একটা বিতর্কিত প্রক্রিয়ার ফসল, যেটাকে নির্বাচন বলতে বিবেক বাধা দেয়। সেই প্রক্রিয়া দিয়ে যে সরকার আসে, সেই সরকার থেকে ঈদের মৌসুমে পাহাড়ি জেলায় তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা করাটাই হয়তো বাড়াবাড়ি।
পর্যটন খাতের মানুষরা বলছেন সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন আগাম প্রস্তুতি দরকার। কিন্তু যে সরকার নিজের বৈধতা নিয়েই প্রশ্নের মুখে, তারা পর্যটনের পরিকল্পনা করবে কোন মাথায়?
সাজেকে সেদিন তিন হাজার পর্যটক ঢুকেছেন। তারা পাহাড় দেখেছেন, প্রকৃতি উপভোগ করেছেন। কিন্তু ফেরার পথে তেল নিয়ে যে দুশ্চিন্তা, সেটা তাদের মনে খাগড়াছড়ি নিয়ে কোন স্মৃতি রাখবে? আর সেই স্মৃতির দায় কার?
