মাঝরাতে খোদ থানার ভেতরে ঢুকে খোদ ওসি-সহ সাত পুলিশ সদস্যকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল একদল যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে।
বুধবার রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় এই নজিরবিহীন তাণ্ডবের ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আহত পুলিশ আধিকারিকদের উদ্ধার করে তড়িঘড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করতে হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ, গ্রেফতার করা হয়েছে এক অভিযুক্তকে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি বাজারের দোকানের মালিকানা সংক্রান্ত বিবাদকে কেন্দ্র করে। পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ যুব জামায়াত নেতা মাহমুদুল হাসান পলাশ একদল অনুগামী নিয়ে থানায় হাজির হন। একটি নির্দিষ্ট দোকানে তৎক্ষণাৎ তালা ঝোলানোর জন্য তিনি ওসির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। কিন্তু ওসি সরোয়ার আলম খান আইনি তদন্ত ছাড়া পদক্ষেপ নিতে অস্বীকার করতেই শুরু হয় বচসা। অভিযোগ, বচসা চলাকালীন আচমকাই মেজাজ হারিয়ে ওসির ওপর চড়াও হন ওই নেতারা। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন আরও ছয় পুলিশ কর্মী। সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রুহুল আমিন-সহ আহতদের অবস্থা বেগতিক দেখে হাসপাতালে পাঠাতে হয়।
যদিও এই মারধরের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে যুব জামায়াত শিবির। তাঁদের পাল্টা দাবি, পুলিশই আগে তাঁদের ওপর চড়াও হয়েছিল এবং তাতে তাঁদের দুই কর্মী জখম হয়েছেন। পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দলের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পুলিশের ওপর এই প্রকাশ্য হামলার ঘটনায় জেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পলাশবাড়ীর সহকারী পুলিশ সুপার এবিএম রশিদুল বারী সাফ জানিয়েছেন, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, পুলিশের গায়ে হাত দেওয়ার পরিণাম হবে কড়া। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
