চ্যানেল ১৪ প্রতিবেদন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শোক প্রস্তাবের সঙ্গে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর নামও জাতীয় সংসদের শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এ শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়।
উল্লেখ্য, খালেদা জিয়ার সর্বশেষ মন্ত্রিসভায় যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। দিনের শুরুতেই বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
এর আগে জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অধিবেশনের প্রথম অংশ শুরু হয়। পরে স্পিকার পদে হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার পদে কায়সার কামাল নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর কিছু সময়ের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হলে বিরতির মধ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। পরে অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে সংসদে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
সংসদের কার্যসূচিতে আগে থেকেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তি এবং দেশি–বিদেশি বিভিন্ন বিশিষ্টজনের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল।
শোক প্রস্তাবের সময় স্পিকার সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন। তিনি বলেন, শোক প্রস্তাবে কিছু নাম বাদ পড়েছে। সেগুলো উল্লেখ করার জন্য তিনি বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে অনুরোধ করেন।
পরে তাহের বক্তব্যে বলেন, শোক প্রস্তাব একটি দুঃখের বিষয় হলেও প্রস্তাবনাটি একপেশে করে তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সংসদকে আরও নিরপেক্ষ ও প্রাণবন্ত করতে এ বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
এ সময় তিনি কয়েকজন রাজনীতিবিদ ও গণ্যমান্য ব্যক্তির নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন। এর মধ্যে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়।
পরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম যুদ্ধাপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন।
এ বিষয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা যাঁদের নাম বলেছেন, তাঁদের নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
অধিবেশনে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে পৃথক শোক প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়।
এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতিসহ বহু সাবেক সংসদ সদস্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তি, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহতরা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রকাশ করা হয়।
পরে সংসদে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।
