প্রফেসর ড. মাসুদার রহমান
“বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নেই”—এই বাণীটি জুলাই–আগস্ট ’২৪-এর আন্দোলনের সময় মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল। তখনও বঙ্গবন্ধুর নাম, আদর্শ ও সংগ্রামের ইতিহাস মানুষের মধ্যে আন্দোলনের শক্তি জাগাতে সামনে আনা হয়েছিল।
কিন্তু আজ সেই বঙ্গবন্ধুকেই ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। তাঁর আদর্শ, স্মৃতি এবং প্রতীকগুলোকে বিলীন করার অপচেষ্টা কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি আমাদের জাতীয় স্মৃতিচেতনাকে টানে।
সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করাকে কেন্দ্র করে কোথাও কোথাও উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি মাঝে মাঝে মব সৃষ্টি এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি করছে। একটি জাতির ইতিহাসে এমন গুরুত্বপূর্ন ভাষণকে ঘিরে এই ধরনের প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ও বিস্ময় সৃষ্টি করে।
একইভাবে, ধানমন্ডি ৩২ বা টুঙ্গিপাড়ায় শান্তিপূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শনও আজ সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে “সন্ত্রাসী কার্যক্রম”–এর অভিযোগ বা আটক—এই পরিস্থিতি একটি গণতান্ত্রিক দেশে গভীর উদ্বেগের বিষয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ দুটি অবিচ্ছেদ্য নাম। তাঁর নেতৃত্ব, সংগ্রাম এবং ত্যাগ এই রাষ্ট্রের জন্মের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই তাঁকে ঘিরে বিতর্ক থাকতে পারে, মতভেদ থাকতে পারে; কিন্তু ইতিহাস থেকে তাঁকে মুছে ফেলার চেষ্টা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
দেশের প্রয়োজনে, মানুষের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগ সবসময় কাজ করেছে এবং করবে। আওয়ামী লীগের প্রয়োজনে নয়—বাংলাদেশের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগ বারবার উঠে দাঁড়িয়েছে। যখনই দেশের ওপর আঘাত এসেছে, তখনই জনগণই আওয়ামী লীগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি কোনো কৃত্রিম সংগঠন নয়; এটি বাংলার মা-মাটি-মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নাম।
আজকের বাংলাদেশে রাজনীতি ও ইতিহাস নিয়ে আলোচনা স্বাভাবিক। ভিন্নমত থাকা উচিত, কিন্তু ইতিহাসকে অস্বীকার করে না, বরং তথ্যভিত্তিক ও সহনশীল আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতের পথ তৈরি করাই গণতান্ত্রিক দায়িত্ব।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জনগণের শক্তিই আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
