বিশ্বের বিলিয়নিয়ারদের সম্পদ দ্রুত বাড়ছে এবং সেই সঙ্গে বাড়ছে তাঁদের সংখ্যাও। প্রযুক্তি খাতের বিস্তার, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উত্থান, শক্তিশালী শেয়ারবাজার এবং বিভিন্ন দেশের সহায়ক আর্থিক নীতির কারণে অতিধনীদের সম্পদ বৃদ্ধির গতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দ্রুত হয়েছে।
বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বসের প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকায় বিশ্বের মোট ৩ হাজার ৪২৮ জন বিলিয়নিয়ার স্থান পেয়েছেন। গত এক বছরে নতুন করে প্রায় ৪০০ জন এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।
ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সব বিলিয়নিয়ারের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ এখন প্রায় ২০ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে অতিধনীদের মোট সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার।
দেশভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি বিলিয়নিয়ারের বসবাস যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে সংখ্যা ৯৮৯ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন, যেখানে হংকংসহ বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ৬১০ জন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত, যেখানে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ২২৯ জন।
ফোর্বসের ২০২৬ সালের তালিকায় আবারও শীর্ষে রয়েছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮৩৯ বিলিয়ন ডলার, যা অন্য যেকোনো ধনীর তুলনায় অনেক বেশি।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজ, তাঁর সম্পদ প্রায় ২৫৭ বিলিয়ন ডলার। তৃতীয় স্থানে আছেন গুগলের আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন, যার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৩৭ বিলিয়ন ডলার।
চতুর্থ স্থানে রয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, পঞ্চম স্থানে মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গ।
তালিকার অন্যদের মধ্যে রয়েছেন ওরাকলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন, বিলাসপণ্যের প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচের মালিক বার্নার্ড আর্নল্ট, এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং, বিনিয়োগ গুরু ওয়ারেন বাফেট এবং স্পেনের ফ্যাশন উদ্যোক্তা আর্মানসিও ওর্তেগা।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং প্রযুক্তিভিত্তিক কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য বৃদ্ধিই বর্তমানে বিশ্বের নতুন সম্পদ সৃষ্টির প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে।
