প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের বিরুদ্ধে আবারও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি পিআইবিতে সেমিনারের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ উত্তোলন করা হয়।
গত ৫ মার্চ দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দুই দিনে সেমিনারের নামে বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের বিল দেখিয়ে অর্থ তোলা হয়েছিল।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফারুক ওয়াসিফ ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ওই দুই দিনে কোনো সেমিনারই অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে সেমিনারের নামে অর্থ তছরুপের প্রশ্ন ওঠে না। তাঁর অভিযোগ, একটি পক্ষ জাল নথি তৈরি করে সংবাদমাধ্যমে সরবরাহ করেছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তবে নতুন অনুসন্ধানে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে কালের কণ্ঠ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে জমা দেওয়া উৎস করের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি পিআইবিতে অনুষ্ঠিত দুটি সেমিনারের বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের বিপরীতে কর জমা দেওয়া হয়েছে।
এসব খাতের মধ্যে রয়েছে খাবার, দাওয়াত কার্ড, স্টেশনারি, সাউন্ড সিস্টেম, ডেকোরেশন, গাড়িভাড়া এবং আলোচকদের সম্মানী। মোট ৫৩টি চালানের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা উৎস কর জমা দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে যাচাই করেও এসব চালানের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চালানগুলো জমা দিয়েছেন পিআইবির সিনিয়র রিসার্চ অফিসার গোলাম মুর্শেদ।
এদিকে অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠেছে, ‘গুপী বাঘা প্রোডাকশনস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। তবে ওই ব্যয়ের বিপরীতে সরকারি কোষাগারে ভ্যাট বা ট্যাক্স জমা দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকৃত ব্যয় সাত থেকে আট লাখ টাকার বেশি নয়।
এ ছাড়া সরকারি কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় টেন্ডার, ওয়ার্ক-অর্ডার ও ব্যাংকিং চ্যানেলের নিয়ম মানা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। অনেক নথি ব্যাকডেট করে তৈরি করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগগুলো আবারও অস্বীকার করেছেন ফারুক ওয়াসিফ। তাঁর দাবি, বোর্ড সভা ও অডিট টিম ইতোমধ্যে কাগজপত্র পর্যালোচনা করেছে এবং সেখানে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য তিনি টেলিফোনে দিতে চান না বলেও জানিয়েছেন।
