বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজেকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে উপস্থাপন করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এখনো তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদায়নের প্রস্তাব দেন। চিঠিতে তিনি দাবি করেন, এতে বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতি সরকারের কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রচলিত কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ বিরোধী দলের একজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে সরাসরি সরকারি মন্ত্রণালয়ে যুক্ত করা হলে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার স্বাভাবিক বিভাজন অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে।
এ ছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে এসেছে—ডা. শফিকুর রহমান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। সংসদের কার্যপ্রণালী অনুযায়ী বিরোধী দলের নেতা হিসেবে কাউকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষমতা কেবল সংসদের স্পিকারের রয়েছে।
যদিও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে এবং দলের সংসদীয় সদস্যরা তাকে নেতা হিসেবে মনোনীত করেছেন, তবে সেই সিদ্ধান্ত এখনো স্পিকারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিলম্বের পেছনে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক শূন্যতা। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করার পর থেকে স্পিকারের পদ শূন্য রয়েছে। একই সময় ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুও গ্রেপ্তার হওয়ায় সংসদে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া থমকে আছে।
এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান শফিকুর রহমান। সেখানে তিনি নিজেকে বিরোধী দলের নেতা হিসেবেই পরিচয় দেন। তবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছাড়া এই দাবি আইনি ভিত্তি পায় না বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংসদের নতুন অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেই অধিবেশনে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর বিরোধী দলের নেতৃত্বের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
