জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কয়েকজন পাইলটের লাইসেন্স ও উড়ানঘণ্টা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে অন্তত চারজন পাইলটের বিরুদ্ধে গুরুতর অসংগতি পাওয়া গেছে।
বিমানের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাতজন পাইলটের লাইসেন্স ও উড়ানঘণ্টা নিয়ে সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন প্রয়োজনীয় উড়ানঘণ্টা পূরণ না করেই কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার কারো লগবুকে একই উড়ান সময় দুই কলামে দেখিয়ে ঘণ্টা বাড়ানোর তথ্যও পাওয়া গেছে।
অভিযোগ ওঠা সাতজন পাইলট হলেন—ক্যাপ্টেন আবদুর রহমান আখন্দ, ক্যাপ্টেন ফারিয়েল বিলকিস আহমেদ, ক্যাপ্টেন আনিস, ক্যাপ্টেন বাসিত মাহতাব, ক্যাপ্টেন নুরউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন ইউসুফ মাহমুদ ও ক্যাপ্টেন মুস্তাফিজুর রহমান। এর মধ্যে নুরউদ্দিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান বর্তমানে বিমানের কর্মরত নন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাপ্টেন বাসিত মাহতাবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অসংগতি পাওয়া গেছে। দুটি সরকারি সনদে তার উড়ান অভিজ্ঞতার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য পাওয়া গেছে। একটি নথিতে যেখানে তার উড়ান অভিজ্ঞতা প্রায় ৩৪ ঘণ্টা উল্লেখ রয়েছে, অন্য একটি নথিতে তা ১৫৫ ঘণ্টা দেখানো হয়েছে।
ক্যাপ্টেন আবদুর রহমান আখন্দের ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় ২৫০ ঘণ্টা উড়ান অভিজ্ঞতার পরিবর্তে প্রায় ১৫৪ ঘণ্টা লগ করেই তিনি লাইসেন্স পেয়েছেন।
অন্যদিকে ক্যাপ্টেন ফারিয়েল বিলকিস আহমেদের লগবুকে একই উড়ান সময় দুই কলামে দেখানো হয়েছে, যা উড়ানঘণ্টা বাড়িয়ে দেখানোর সন্দেহ তৈরি করেছে।
এ ছাড়া ক্যাপ্টেন আনিসের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রয়োজনীয় ২০০ ঘণ্টা উড়ান অভিজ্ঞতা পূরণের আগেই তিনি লাইসেন্স পেয়েছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্ত কমিটি সুপারিশ করেছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত পাইলটদের ফ্লাইট দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা উচিত। তবে অভিযোগ তদন্ত চলাকালেও তারা আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এসব অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা শুধু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভাবমূর্তি নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বিমান চলাচল নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বলেন, পাইলটদের লাইসেন্স ইস্যু করে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে সিভিল এভিয়েশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
