আশরাফুল আলম খোকন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ভাইরাল বাংলাদেশের বুকে এক টুকরো জাপান। ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে সারি সারি ক্যাসিয়া রেনিগেরা, পিংক ও সাদা চেরিসহ নানা রকম ফুলের গাছ।
এই উদ্যোগের শুরুর পরিকল্পনাটি কাছ থেকে দেখার সুযোগ আমার হয়েছিল। তখন আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে কাজ করতাম। এক বৈঠকে উপস্থিত থাকার সুযোগ পাই, যেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৪, ৬ ও ৮ লেনের মহাসড়ক নির্মাণের বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল।
বৈঠকের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহাসড়কের মাঝখানে সারি সারি ফুলের গাছ লাগানোর কথা বলেন। সাধারন গাছের পরিবর্তে ফুলের গাছ, এটা শুনে উপস্থিত অনেকেই প্রথমে কিছুটা অবাক হয়েছিলেন। তখন তিনি বিষয়টি আরও জোর দিয়ে ব্যাখ্যা করেন—গ্রীষ্মপ্রধান দেশে যে ফুলগাছগুলো সহজে জন্মায়, সেগুলো লাগানোর কথা বলেন এবং কয়েকটির নামও উল্লেখ করেন।
এর পেছনে ওনার যুক্তিটাও ছিল খুব বাস্তবসম্মত। মহাসড়কে বড় একটি সমস্যা হলো বাস ও ট্রাকের হাই-বিম লাইট। রাতে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির ড্রাইভারদের চোখে সেই তীব্র আলো পড়ে, ফলে সামনে দেখতে অসুবিধা হয় এবং অনেক সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। সড়কের মাঝখানে ফুলের গাছের সারি থাকলে সেই আলো সরাসরি চোখে পড়বে না। পাশাপাশি দিনের বেলায় এই ফুলগাছগুলো মনোরম পরিবেশ তৈরি করবে। সেখান থেকেই এই উদ্যোগের সূচনা।
আর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কের দুই পাশে যে লেক আজ আমরা দেখি, সেটিও মূল পরিকল্পনায় ছিল। কিন্তু নানা কারণে দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়িত হচ্ছিল না। কারণ, সেই এলাকার অধিকাংশ জমি কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর মালিকানাধীন ছিল।
বিষয়টি জানার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার নির্দেশ দেন। কিছুক্ষণ পরই তিনি নিজেই ফোনে কথা বলে তাদের আসতে বলেন। তারা এলে তিনি শুধু একটি কথাই বলেন—“আমি রাস্তার দুই পাশে লেক চাই। আপনাদের যে সমস্যা বা চাহিদা থাকবে, তা যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করা হবে।”
তারপর আর দেরি হয়নি। তারা সৌজন্যের সঙ্গে সম্মতি জানিয়ে বিদায় নেন, আর শুরু হয়ে যায় লেক নির্মাণের কাজ। দূরদর্শী একটি ভাবনা কীভাবে বাস্তবে রূপ নিয়ে মানুষের জীবন ও যাত্রাকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে। জয়তু শেখ হাসিনা!
