বিশেষ প্রতিবেদন | চ্যানেল-১৪
গ্রীষ্ম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নতুন করে তীব্র আকার নিচ্ছে। সরকার বলছে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও ডলার সংকটের প্রভাব পড়ছে আমদানি নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনে। ফলে সামনে লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।
একসময় শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। তখন দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৫ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায় বলে সরকারি তথ্যসূত্রে উল্লেখ ছিল। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জ্বালানি সরবরাহ, আমদানি ব্যয় এবং ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
বর্তমান সরকারপ্রধান তারেক রহমান–এর প্রশাসনের সময়ে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সম্প্রতি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “ঋণে ডুবে থাকার চেয়ে লোডশেডিংয়ে কষ্ট পাওয়া ভালো।” তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনেক গ্রাহক প্রশ্ন তুলেছেন— নিয়মিত বিল পরিশোধ ও প্রিপেইড ব্যবস্থায় অগ্রিম অর্থ দেওয়ার পরও কেন বিদ্যুৎ খাতে ঋণের বোঝা বাড়ছে?
শপিংমলে আলোকসজ্জা বন্ধের ভাবনা
জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার সম্ভাব্য কয়েকটি পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশের শপিংমলগুলোতে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধের নির্দেশনা। মন্ত্রী জানান, যুদ্ধাবস্থা ও বৈশ্বিক উত্তেজনার কারণে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ববাজারেই জ্বালানির চাপ তৈরি হয়েছে। স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি কেনার চেষ্টা চলছে, তবে ব্যয় বেশি হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি আরোপের কথা ভাবা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ডিজেল পাচার রোধে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং Border Guard Bangladesh (বিজিবি)-কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মার্চ মাসজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
বৈশ্বিক প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ চাপ
মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা—জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা করায় আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সরবরাহ ও আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত না হলে উৎপাদন কমে আসতে পারে। এতে শিল্প, বাণিজ্য ও গৃহস্থালি পর্যায়ে লোডশেডিং বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সরকার বলছে, বিদ্যমান মজুত জ্বালানি সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয় রোধে জনসচেতনতা বাড়ানো হবে। তবে গরমের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে—সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে।
