ভোট কেন্দ্রে ভোটার না থাকলেও টেবিল ওয়ার্কের মাধ্যমে ৬০% ভোটার বানাতে হবে সরকারের নির্দেশ। এদিকে জনগণের চাপে তাড়াতাড়ি ফলাফল প্রকাশ করতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেছেন নির্বাচন কমিশন। সবখানে আনুপাতিক হারে ভোটারের সংখ্যা কম বেশি হয়েছে। সেটা গোঁজামিল দিয়ে ঠেক করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সম্ভব হয় না। বেশ কিছু আসনে অসম্ভব কিছু গোঁজামিল ধরা পরে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত গণভোটের ফলাফলে সংশোধনী আনার পর ভোটার উপস্থিতি ও ভোটসংখ্যায় বড় ধরনের তারতম্য দেখা গেছে। সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী আগের ঘোষণার তুলনায় মোট ভোট প্রায় ১১ লাখ কমে গেছে। ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের সংখ্যাতেও স্পষ্ট গরমিল ধরা পড়ে।
বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠার পর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ব্যাখ্যা দিয়েছে। কমিশনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণভোটের ফলাফল প্রস্তুতের সময় এক্সেল শিটে তথ্য এন্ট্রির ভুলের কারণে এই অসঙ্গতি তৈরি হয়েছিল।
ইসির ভাষ্য অনুযায়ী, নেত্রকোনা জেলার তিনটি আসনের তথ্য ভুলভাবে এন্ট্রি হওয়ায় মোট ভোটসংখ্যা বেড়ে যায়। পরে বিষয়টি নজরে আসার পর মাঠপর্যায়ের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ফলাফল প্রতিফলিত হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নেত্রকোনা-৩ আসনে এক লাখ ৩৬ হাজার ৫ ভোটের পরিবর্তে ভুল করে পাঁচ লাখ দুই হাজার ৪৩৮টি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেখানো হয়েছিল। একইভাবে ৬০ হাজার ৭৮৭টির পরিবর্তে এক লাখ ৩৬ হাজার ৫টি ‘না’ ভোট এন্ট্রি করা হয়।
নেত্রকোনা-৪ আসনে ৮২ হাজার ১২৫টির বদলে চার লাখ ২০ হাজার ৬৮৬টি ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং এক লাখ দুই হাজার ১১৩টির বদলে ৮২ হাজার ১২৫টি ‘না’ ভোট দেখানো হয়েছিল।
এ ছাড়া নেত্রকোনা-৫ আসনে এক লাখ ৬৭১টির পরিবর্তে তিন লাখ ৭৫ হাজার ৩০৮টি ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ৪৪ হাজার ৫৭৩টির বদলে এক লাখ ৬৭১টি ‘না’ ভোট এন্ট্রি হয়েছিল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম গেজেট প্রকাশ করা হয়। পরে ২৫ ফেব্রুয়ারি ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ–এর স্বাক্ষরে অতিরিক্ত গেজেট প্রকাশ করে ফলাফলে সংশোধনী আনা হয়।
সংশোধিত ফলাফলে দেখা যায়, ২৯৯টি সংসদীয় আসনে মোট প্রদত্ত ভোট দাঁড়িয়েছে সাত কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬ ভোট। ফলে বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ছয় কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১। বৈধ ভোটের মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট চার কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০ এবং ‘না’ ভোট দুই কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১।
অন্যদিকে প্রথম গেজেট অনুযায়ী মোট ভোট ছিল সাত কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩। বৈধ ভোট ছিল সাত কোটি দুই লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬। সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট ছিল চার কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ এবং ‘না’ ভোট ছিল দুই কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬।
সংশোধিত হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগের তুলনায় ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি এবং ‘না’ ভোট কমেছে এক লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি। একই সঙ্গে বাতিল ভোট বেড়েছে ১২ হাজার ৫৫৯টি। সব মিলিয়ে মোট প্রদত্ত ভোট কমেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, প্রথম ফলাফল প্রস্তুতের সময় করণিক ও সংখ্যাগত ভুল ছিল। পরে মাঠপর্যায়ের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে তা সংশোধন করা হয়েছে। তবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ব্যবধান আগের মতোই বেশি রয়েছে এবং মূল ফলাফলে কোনো পরিবর্তন হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
