আইসিসিকে “ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল” বলে আসলে দিনশেষে কোনোই লাভ হবে না, শুধু সাময়িক মানসিক শান্তি ছাড়া। আমাদের ক্রীড়া কূটনীতি যে কতটা দুর্বল, তার প্রমাণ ১৪–২ ব্যবধানের এই ভূমিধস পরাজয়। আমাদের পক্ষে ভোট দিয়েছে শুধু পাকিস্তান, আর আমরা নিজেরা। আর কোনো বোর্ডকেই আমরা রাজি করাতে পারিনি। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, এমনকি জিম্বাবুয়েও আমাদের পক্ষে ভোট দেয়নি।
এরকম কূটনীতি নিয়ে বড় বড় কথা বলা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না দিনশেষে। যে খেলা সামাল দেয় যায় না, সে খেলায় যেতেই বা হবে কেন? আর কি কোন উপায় ছিল না? উপায় না জানলে কোন যোগ্যতায় বোর্ডে বসেছেন কর্তাব্যক্তিরা? আজ দেখলাম, আসিফ আকবর বোর্ডে গিয়েছেন বয়সভিত্তিক ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে। কিন্তু কাল থেকে যদি বড় দলগুলো বাংলাদেশকে বর্জন করতে শুরু করে, তাহলে ক্রিকেট খেলেই বা কি লাভ হবে? আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে খেলতাম, এরাও যদি আমাদের সঙ্গে না খেলে? অথবা যদি আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়ে বন্ধ হয়ে যায় আমাদের ক্রিকেট? বিপিএলকেও যদি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়, তাহলে বিদেশি খেলোয়াড়রা কি আর আসতে পারবে? আজ যে পাকিস্তান আমাদের পক্ষে ভোট দিল এদের খেলোয়াড়রাও তো আসতে পারবে না বিপিএল খেলতে, বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের বিদেশের লীগে খেলা বাদই দিলাম। মুস্তাফিজের মতো বিশ্বমানের ক্রিকেটাররা কি সত্যিই এমন ভবিষ্যতের যোগ্য?
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এখন সত্যিই ঝুলে গিয়েছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমার মনে হয়, ভারতে যাওয়া আমাদের আর উচিত হবে না। বিষয়টা এখন আর শুধু ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ নেই, এটা আমাদের জাতীয় সম্মানের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মুহূর্তে ক্রিকেটকে ভুলে যাওয়াই হয়তো আমাদের জন্য ভালো হবে।
-শাদমান সাকিব সৌমিক
