ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারীর পরিবারের নামে কানাডায় একটি বাড়ির তথ্য সামনে এসেছে। স্থানীয় ভূমি নিবন্ধন দপ্তর সার্ভিস অন্টারিওর নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ টরন্টোতে আব্দুস সালাম ব্যাপারী ও তাঁর স্ত্রী মাহবুবুন্নেছার নামে বাড়িটি কেনা হয়। পরে ২০২৩ সালে মালিকানার অংশ থেকে আব্দুস সালামের নাম বাদ দিয়ে প্রথমে এক ছেলের নাম যুক্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে পুরো মালিকানা স্ত্রীর নামে স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, বাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। কেনার সময় এর মূল্য ছিল প্রায় ১২ কোটি টাকা। বাড়িটি কেনা হয় বুইয়ং–এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইনসান ইয়ামের কাছ থেকে।
আব্দুস সালাম ব্যাপারী বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এর আগে তিনি সংস্থাটির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বলে সংস্থার একাধিক সূত্র জানিয়েছে। গত বছরের ১১ নভেম্বর তাঁকে তিন বছরের জন্য এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তখন বিতর্ক তৈরি হয়; বিজ্ঞপ্তির শর্ত একাধিকবার সংশোধন এবং পদোন্নতির মাধ্যমে তাঁকে যোগ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
কানাডায় বাড়ির বিষয়ে জানতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ফোন করা হলে আব্দুস সালাম বলেন, বাড়িটি তাঁর সন্তানেরা কিনেছেন। সন্তানেরা কী করেন এ প্রশ্নে তিনি জানান, তাঁরা পেশাজীবী। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান এবং ‘ব্যক্তিগত’ বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে মামলা করার হুমকিও দেন।
পরে সরাসরি দেখা করতে গেলে দীর্ঘ সময় বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বললেও কানাডার বাড়ি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি। বলেন, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য প্রস্তুত নন।
সরকারি চাকরিজীবীদের আচরণবিধি অনুযায়ী, বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মতো সম্পদ অর্জনের আগে সরকারকে অবহিত করে অনুমোদন নিতে হয়। সরকারি চাকরি আইনের বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার সন্তানের নামে সম্পদ কেনা হলেও তা আগে জানাতে হয় এবং অর্থের উৎস উল্লেখ করতে হয়।
ঢাকা ওয়াসা সূত্রের দাবি, আব্দুস সালামের স্ত্রী মাহবুবুন্নেছা নিজেও সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন। ২০০৮ সালের দিকে দুই সন্তানকে নিয়ে কানাডায় গেলে পরে আর চাকরিতে যোগ দেননি। তাঁদের দুই ছেলে কানাডায় উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন বলে লিংকডইন প্রোফাইলে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার পরিবারের নামে বিদেশে এ ধরনের সম্পদ অর্জন স্বাভাবিক নয়। অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তদন্ত হওয়া উচিত এবং তদন্ত চলাকালে প্রয়োজন হলে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনো বিস্তারিত জানেন না; খোঁজ নিয়ে পরে মন্তব্য করা যাবে।
কানাডায় বাংলাদেশিদের কেনা বাড়ির নির্দিষ্ট কিছু এলাকা ‘বেগমপাড়া’ নামে পরিচিত। অতীতে অবৈধভাবে অর্থ পাচারের অভিযোগে এ ধরনের সম্পদ কেনাবেচা নিয়ে আলোচনা হলেও কার্যকর তদন্ত বা অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি কম।
আব্দুস সালাম ব্যাপারীর ক্ষেত্রে কানাডার বাড়ি কেনার অর্থের উৎস, সরকারি অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না এবং মালিকানা পরিবর্তনের কারণ এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।
