রংপুরে কারাগারে থাকা এক যুবলীগ নেতার ‘ডিশ-ইন্টারনেট’ ব্যবসা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। কেব্ল অফিসে হামলা, ভাঙচুর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে বেডরুমে ঢুকে ‘বউ-বাচ্চাসহ গুলি করে হত্যার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যে ওই দুই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান (মনু) ও সহসাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ (গালিব)। গতকাল রোববার রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাঁদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রংপুর নগরে ‘মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড’-এর ফিড অপারেটর হিসেবে ‘ক্যাবল ওয়ান নেটওয়ার্ক’-এর মাধ্যমে কামাল কাছনা থেকে দখিগঞ্জ শ্মশান এলাকা পর্যন্ত কেব্ল ও ওয়াই-ফাই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের ব্যবসা হস্তান্তরের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি কামাল কাছনা এলাকায় তাঁদের বৈধ ফিডারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার হারুন অর রশিদের স্ত্রী রেবেকা হারুন সংবাদ সম্মেলন করেন।
থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, আগের ঘটনার জেরে রোববার বিকেল চারটার দিকে স্টেশন রোডে ক্যাবল ওয়ানের কার্যালয়ে তামজিদুর রশিদ ও আকিবুল রহমানসহ ১৫-২০ জন প্রবেশ করে ব্যবস্থাপক রায়হান আহম্মেদকে মারধর করেন এবং ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন। তাঁরা তামজিদুর রশিদকে নতুন ফিড অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য চাপ দেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কার্যালয়ে অবস্থানকালে আকিবুল রহমান মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের ম্যানেজার মাহাদি হাসানকে ফোন করে হুমকি দেন। ফুটেজ অনুযায়ী, তিনি বলেন, ‘লাইনের কী সমাধান করবেন। তুই আওয়ামী লীগের দালালি করছিস। তোর বাসায় গিয়ে গুলি করে আসব। আজ বিকেলের মধ্যে সমাধান না করিস, তাহলে তোর বেডরুমে গিয়ে বউ-বাচ্চাসহ তোকে গুলি করে আসব।’
অভিযোগের বিষয়ে তামজিদুর রশিদ দাবি করেন, ২০১৫ সাল পর্যন্ত লাইনটি তাঁর ছিল এবং কারাবন্দি থাকার সময় সেটি দখল করা হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি আলোচনার জন্য গিয়েছিলেন, হামলা বা ভাঙচুরের অভিযোগ সঠিক নয়।
রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান আলী জানান, এ ঘটনায় তামজিদুর রশিদ ও আকিবুল রহমানের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে আসামি করে দুটি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
