বিদায়ের প্রাক্কালে বাংলাদেশের কফিনের শেষ পেরেকটি গেঁথে গেলেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস। প্রভুদের খুব ভালোমতই খুশি করে দিলেন। “গোলামীর চুক্তি” বা একতরফা চুক্তি আসলে কি সেটা আমাদের বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন, নতুন করে শেখালেন, অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন! বাংলাদেশীরা নিজেদের অনেক ধূর্ত ভাবলেও, বাস্তবে এদের মতো নির্বোধ আর মূর্খ আসলে হয় না। মুখে মুখে দুনিয়া জয় করা এই বাংলাদেশীদের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকের খবর হয় ১২২ বছর আগে আবিস্কার হওয়া উড়োজাহাজের অনুকরণ, সেটাই নাকি বাংলাদেশের অর্জন! পশ্চিমে যেটা মানুষ শখ হিসেবে করে, এমনকি ইউটিউবেও শত শত ভিডিও ছড়িয়ে আছে যে ধরনের প্রকল্পের, সেটাই নাকি আমাদের আবিস্কার!
সে যাই হোক, এই বুদ্ধিমান শ্রেণীর একজন অতিবুদ্ধিমান রাজা ড. ইউনুস। এমনকি আমার ফেসবুকের প্রকৌশলী বন্ধুমহলেও তার অনেক ভক্ত, পাঁচটা বছর থাকলেন না স্যার, আহা! স্যার আসলেন, দেখলেন, জয় করলেন, কিন্তু কার জন্য? ডানপন্থীদের অনেক তেলতোয়াজ করলেন, স্যারের ডানপন্থী বন্ধুরা খুশি হলো। তারা সংখ্যালগুদের জীবন্ত পুড়িয়ে উল্লাস করলো, পিটিয়ে হত্যা করল, কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে দিল, মাজারপন্থীদের অত্যাচার করলো, বাউলের গান বন্ধ করে দিল। স্যার আনন্দে হাততালি দিলেন, আরও ধ্বংস কর, তোমরাই আমার শক্তি।
আমার ফেসবুকের ডানপন্থী বন্ধুরাও খুশি হলো, স্যারের কি ক্ষমতা, আহা! এতটা ক্ষমতায়িত ইহজন্মেও বোধ করেন নি তারা, তাদের লোভ হলো। এ ক্ষমতা আর হাতছাড়া করতে চান না, স্যারকে যে কোন উপায়ে রেখে দাও। স্যারও সুযোগের সদ্ব্যবহার করলেন, প্রভুদের খুশি করার সর্বাত্মক চেষ্টাচরিত চালিয়ে গেলেন, তাদের হয়ে পরিকল্পনামত কাজ করে গেলেন। একে একে বহু চুক্তি হতে থাকল, স্যারের বুদ্ধিমান সমর্থকরা হাততালি দিতে থাকল। বলতে লাগলো, আরে দেখ স্যার কিভাবে দুর্নীতিবাজদের শায়েস্তা করছেন! বাকস্বাধীনতাভূক স্যারের এই সমর্থকরা বাক-স্বাধীনতা বাক-স্বাধীনতা বলে চিৎকার করতে লাগলো। তাদের পেটে যেহেতু অনেক বাক-স্বাধীনতা, চাকরিহারা যাদের পেটের ভাত স্যার কেড়ে নিয়েছেন তাদের আওয়াজ তাদের কানে কখনোই পৌঁছাল না। তাদের তথাকথিত বাঁক-স্বাধীনতার এই যুগে যে কেউ স্যারের বিরোধিতা করলেই সে ভারতের দালাল হয়ে যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের ষড়যন্ত্রকারী বলে প্রমাণ ছাড়া গ্রেফতার করা হয়, মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়, কারাগারে রহস্যজনক মৃত্যু হয় অসংখ্য বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির নেতাকর্মীদের। তাদের প্রচারিত এই বাঁক-স্বাধীনতা শুধু তাদের স্যারের আর রাজাকারদের স্তুতি গাওয়ার জন্যই ব্যবহৃত হয়, যার আবার ষোলআনাই ভন্ডামি।
এটা ভারতীয় আধিপত্যবাদের মত কল্পিত কোন ধারণা নয়, একদম নিরেট সত্য! স্যার আমাদের অনেক নতুন কিছুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, তার মধ্যে ননডিসক্লোসার এগ্রিমেন্ট বা গোপনীয় চুক্তি অন্যতম, সেগুলো না হয় নাই জানলাম। প্রকাশ করা হয়েছে এমন একটি চুক্তিই আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়, আমি অবাক হচ্ছি এটা ভেবে যে এই বিষয়টা নিয়ে মানুষ তেমন একটা কথা বলছে না। নির্বাচনের খবরের ভিড়ে গুরুত্বপূর্ণ এই খবরটি একদমই চাপা পড়ে গেছে। অবশ্য স্যার এসব কাজে সেরা, আগেও বিভিন্ন গুরুত্ববহ ঘটনাকে নানাভাবে ধামাচাপা দিয়েছেন।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ৯ তারিখ। নির্বাচনের ঠিক ৩ দিন আগে, সবাই যখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের একটি চুক্তি হলো। সচেতন অনুসন্ধিৎসু নাগরিক প্রথমেই প্রশ্ন করবে এত তড়িঘড়ি করে একটা অনির্বাচিত সরকার কেন এই চুক্তি করলো? আর কয়েকটা দিন কি অপেক্ষা করা যেতো না? আসলে চুক্তিটাই এমন যে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসা একটা নির্বাচিত সরকার এরকম একটি একপেশে চুক্তি করতে দশবার ভাববে, যেহেতু তাদের জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা আছে, দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে। আর চুক্তিটা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের সাথে যেটা নতুন কেউ আসলেও বাতিল করার সাহস করবে না। এখন প্রশ্ন হলো, কি আছে সেই চুক্তিতে?
এই চুক্তির প্রতিটি অনুচ্ছেদ নিয়েই আলাদা বড় লেখা হতে পারে। আমি সবগুলোতে যাব না, কিছু কিছু বিষয় তুলে আনার চেষ্টা করব। উদাহরণ দিয়ে সবার বোধগম্য হয় এভাবে লেখার চেষ্টা করব। ব্যক্তিগতভাবে যেহেতু তথ্য-প্রযুক্তির সাথে জড়িত প্রযুক্তি নিয়েই শুরু করা যাক।
অনুচ্ছেদ ৩.৪ এ উল্লেখ করা হয়েছে:
“বাংলাদেশ তার ভূখণ্ডে ব্যবসা পরিচালনার শর্ত হিসেবে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্ত মার্কিন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান (U.S. persons)-কে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তি, উৎপাদন প্রক্রিয়া, সোর্স কোড, অথবা অন্যান্য মালিকানাধীন (proprietary) জ্ঞান হস্তান্তর করতে বা এতে প্রবেশাধিকার দিতে বাধ্য করার জন্য কোনো শর্ত আরোপ করবে না এবং কোনো অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাধ্য করবে না। একইভাবে, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ক্রয় করতে, ব্যবহার করতে, অথবা কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য করার মতো কোনো শর্তও আরোপ করতে পারবে না।”
এই অনুচ্ছেদের কারণে বাংলাদেশ আইন করে কোনো খাতে বাধ্যতামূলক প্রযুক্তি হস্তান্তরের শর্ত দিতে পারবে না—যেটা চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, এমনকি ইন্দোনেশিয়াও করে।
উদাহরণস্বরূপ:
- ভারতে অ্যামাজন, গুগলকে ডেটা সেন্টার বসাতেই হয়।
- চীনে অ্যাপলকে এনক্রিপশন চাবি দিতে হয়।
- ভিয়েতনামে স্যামসাংকে প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে হয়।
অনুচ্ছেদ ৩.২ এ উল্লেখ করা হয়েছে:
১. “বাংলাদেশ যা করতে বাধ্য থাকবে:
(ক) মার্কিন ডিজিটাল পণ্যের প্রতি বৈষম্যমূলক কোনো ব্যবস্থা থেকে বিরত থাকা;
(খ) ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিশ্বস্ত দেশগুলোর মধ্যে তথ্যের অবাধ আন্তঃসীমান্ত স্থানান্তর নিশ্চিত করা;
(গ) সাইবার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করা।”
সরল ভাষায়:
- মার্কিন অ্যাপ, সফটওয়্যার, ই-বুক, সিনেমা – এগুলোকে বাংলাদেশ বৈষম্য করতে পারবে না। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশি বিকল্প আছে বলে শুধু মার্কিন হবার কারণে কোন পণ্যকে নিষিদ্ধ করার অধিকার রাখবে না বাংলাদেশ সরকার।
- বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন কোম্পানির তথ্য ব্যবসার জন্য বিদেশে পাঠানো হলে সেটা বাধা দেয়া যাবে না।
- প্রয়োজনে বাংলাদেশকে মার্কিন সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় করতে হতে পারে।
২. শর্ত লঙ্ঘনের পরিণতি:
“বাংলাদেশ যদি এমন কোনো দেশের সঙ্গে নতুন ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তিতে প্রবেশ করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাবশ্যক (essential) স্বার্থকে ঝুঁকির মুখে ফেলে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ-এর সঙ্গে পরামর্শ-আলোচনা (consultations) করে যদি উদ্বেগ সমাধান করতে ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাতিল করতে পারবে এবং ২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখের Executive Order 14257-এ নির্ধারিত প্রযোজ্য পারস্পরিক শুল্কহার (reciprocal tariff rate) পুনরায় আরোপ করতে পারবে।”
সরল ভাষায়:
- বাংলাদেশ যদি চীনের সঙ্গে ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তি করে, আর যুক্তরাষ্ট্র বলে “এটা আমাদের স্বার্থের পরিপন্থী”—তাহলে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে এই চুক্তি বাতিল করে আগের উচ্চ শুল্ক ফিরিয়ে আনতে পারবে।
- ‘অত্যাবশ্যক স্বার্থ’–এর কোনো সংজ্ঞা চুক্তিতে নেই। এটি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল।
অনুচ্ছেদ ২.১১: সীমান্ত ব্যবস্থা ও কর
১. “যুক্তরাষ্ট্র যদি এমন কোনো সীমান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যা regulatory arbitrage (নিয়ন্ত্রক ফাঁকফোকরের সুযোগ নেওয়া) মোকাবিলা করার জন্য এবং যা মার্কিন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ ওই বিষয়টি মোকাবিলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করবে এবং নিজের সীমান্ত ব্যবস্থাগুলোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার চেষ্টা করবে।”
ধরুন, চীনের একটি ইস্পাত কোম্পানি বাংলাদেশে কারখানা বসিয়ে অত্যন্ত কম খরচে রড তৈরি করছে। কারণ বাংলাদেশে শ্রম আইন শিথিল, পরিবেশ আইন দুর্বল, কর কম। এই রড যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে তারা মার্কিন ইস্পাত কোম্পানির চেয়ে ৪০% কম দামে বাজার দখল করে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ক্ষুব্ধ হয়ে বলে—“এটা তো রেগুলেটরি আর্ভিট্রেজ! বাংলাদেশের দুর্বল আইনের সুযোগ নিয়ে আমার বাজার নষ্ট করছে।” তখন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে আসা ইস্পাতের ওপর ২৫% শুল্ক বসায়। এখন চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ কী করবে? বাংলাদেশ বলতে পারবে না—“আমরা তো চীনা কোম্পানিকে সুবিধা দিই, ওদের রপ্তানিতে আমাদের কিছু যায়-আসে না।” বরং বাংলাদেশকে নিজের সীমান্তেও একই ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে—যেমন সেই চীনা কোম্পানির রপ্তানির ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে, বা তার ওপর বাড়তি কর বসাতে হবে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে বাংলাদেশের শুল্কনীতি নির্ধারণ করবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ—বাংলাদেশের নিজস্ব বাণিজ্য নীতি নয়।
২. “কর ব্যবস্থার পার্থক্য যে পারস্পরিক নয় এমন বাণিজ্য (nonreciprocal trade) সৃষ্টি করতে পারে—এটি স্বীকার করে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত এমন কোনো ব্যবস্থার বিরোধিতা করবে না (এমনকি পাল্টা প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা/countervailing measures গ্রহণ করে বা WTO-তে গিয়েও নয়), যেখানে যুক্তরাষ্ট্র তার রপ্তানির ক্ষেত্রে সরাসরি কর (direct taxes) ফেরত দেয় (rebate) অথবা সরাসরি কর আরোপ থেকে বিরত থাকে (refrain from imposing)।”
ধরুন, বোয়িং (মার্কিন বিমান প্রস্তুতকারক) যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান তৈরি করে বাংলাদেশকে রপ্তানি করে।যুক্তরাষ্ট্র সরকার বোয়িং-কে বলে—“তোমরা যদি বাংলাদেশে বিমান রপ্তানি করো, তোমাদের কর মাফ করে দেব।” এটি WTO-র নিয়মে নিষিদ্ধ রপ্তানি ভর্তুকি। কানাডা বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন চাইলে WTO-তে মামলা করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ পারবে না। বাংলাদেশ বলতে পারবে না—“আপনারা তো WTO-র নিয়ম ভাঙছেন, আমাদের বিমান সংস্থা তো এত কম দামে বিমান পাচ্ছে না!” অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র বেআইনি কিছু করলেও বাংলাদেশ নীরব থাকতে বাধ্য।
৩. “বাংলাদেশ এমন ভ্যাট আরোপ করবে না যা মার্কিন কোম্পানির প্রতি বৈষম্যমূলক।”
ধরুন, বাংলাদেশি ই-কমার্স সাইট চালডাল–এর পণ্যে ৫% ভ্যাট। কিন্তু মার্কিন ই-কমার্স সাইট অ্যামাজন–এর পণ্যে ১৫% ভ্যাট ধার্য করা হলো—এই বলে যে “অ্যামাজন বিদেশি কোম্পানি”। এটি চুক্তি লঙ্ঘন। অ্যামাজন বলতে পারবে—“আপনারা আমাদের প্রতি আইনগত ও বাস্তবিক বৈষম্য করছেন।” অর্থাৎ করের হার নির্ধারণে মার্কিন কোম্পানিকে স্থানীয় কোম্পানির সমান সুবিধা দিতেই হবে।
৪. “বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে মার্কিন পণ্যের জন্য পূর্ণ প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেসিং, পেপারলেস ট্রেড ও ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করবে।”
এটা বাংলাদেশের জন্য ভাল হবে বলেই মনে করি। শুধু মার্কিন পণ্যের কথা বললেও এটা সামগ্রিকভাবেই করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কিছূ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। আবার বন্দরের সক্ষমতা বা কার্যকারিতাও বৃদ্ধি পাবে।
অনুচ্ছেদ ৪.১: পরিপূরক ব্যবস্থা
১. “যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো সীমান্ত ব্যবস্থা (border measure) বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে ওই ব্যবস্থা তাদের অর্থনৈতিক বা জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রাসঙ্গিক, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সেই ব্যবস্থা সম্পর্কে বাংলাদেশকে জানাবে। বাংলাদেশ এই ধরনের নোটিশ পাওয়ার পর এবং দুই দেশের মধ্যে পরামর্শ-আলোচনা সম্পন্ন হলে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে সমর্থন করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ তার নিজস্ব আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী একটি পরিপূরক সীমাবদ্ধতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বা বহাল রাখবে।”
উদাহরণস্বরূপ, রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে—“রাশিয়ার তেল কিনলে আমরা তাদের যুদ্ধের অর্থ জোগান দিচ্ছি, এটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর”। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে তেল আমদানি নিষিদ্ধ করল। বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে তেল কিনলে, যুক্তরাষ্ট্র বলবে—“আমরা রাশিয়ার তেল নিষিদ্ধ করেছি, তোমরাও করো”। আলোচনার পর বাংলাদেশকেও রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে হবে, এমনকি যদি বাংলাদেশের জন্য তা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনকও হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশের নিজস্ব জ্বালানি নীতি ও স্বার্থের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ বড় হয়ে যাবে।
২. “বাংলাদেশ তার অধিক্ষেত্রে (jurisdiction) পরিচালিত তৃতীয় দেশের মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত (owned or controlled by third countries) কোম্পানিগুলোর এমন কার্যপ্রণালী মোকাবিলা করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে, যার ফলে:
(১) যুক্তরাষ্ট্রে বাজারদরের নিচে (below-market price) পণ্য রপ্তানি হয়;
(২) যুক্তরাষ্ট্রে বাজারদরের নিচে পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পায়;
(৩) যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি হ্রাস পায়; অথবা
(৪) যুক্তরাষ্ট্র থেকে তৃতীয় দেশের বাজারে রপ্তানি হ্রাস পায়।
এই ধরনের বাজারদরের নিচে পণ্যের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে তথ্য প্রদান করবে।”
ধরুন, চীনের একটি সোলার প্যানেল কোম্পানি বাংলাদেশে কারখানা বসিয়ে সৌর প্যানেল তৈরি করে। তারা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্যানেল রপ্তানি করে মার্কিন বাজারদরের চেয়ে ৫০% কম দামে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে জানায়—“এই কোম্পানি বাজারদরের নিচে প্যানেল রপ্তানি করছে। শুধু তাই নয়, তাদের কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে সোলার প্যানেল রপ্তানি ৬০% কমে গেছে। কারণ বাংলাদেশি ক্রেতারা এখন এই চীনা কোম্পানির সস্তা প্যানেল কিনছে, আমেরিকান প্যানেল নয়। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে চীনা কোম্পানিটির রপ্তানির মূল্য ও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, অথবা আমেরিকান কোম্পানিকে অতিরিক্ত কর সুবিধা দিতে হবে। অর্থাৎ চীনা কোম্পানির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি কমলে, বাংলাদেশকে সেই পরিস্থিতি ঠিক করতে হবে।
অনুচ্ছেদ ৪.৩ এর ৪ নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছে:
“বাংলাদেশ যদি কোনো অ-বাজারভিত্তিক (non-market) দেশের সঙ্গে নতুন কোনো দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (bilateral free trade agreement) বা অগ্রাধিকারমূলক অর্থনৈতিক চুক্তি (preferential economic agreement) করে, এবং সেই চুক্তি এই চুক্তির উদ্দেশ্য বা কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ-এর সঙ্গে পরামর্শ-আলোচনা করে যদি উদ্বেগ সমাধান করতে ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাতিল করতে পারবে এবং ২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখের Executive Order 14257-এ নির্ধারিত প্রযোজ্য পারস্পরিক শুল্কহার (reciprocal tariff rate) পুনরায় আরোপ করতে পারবে।”
উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ যদি চীনের মতো একটি non-market দেশের সাথে FTA (মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) বা preferential agreement করে, এবং যুক্তরাষ্ট্র মনে করে এটি এই চুক্তিকে undermine করছে, তাহলে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাতিল করে আগের reciprocal tariff পুনরায় আরোপ করতে পারবে। ফলে চীন, রাশিয়া, ভিয়েতনামসহ ১২ টি অ-বাজারভিত্তিক দেশের সাথে FTA বাস্তবে বাংলাদেশের জন্য অসম্ভব হয়ে যাবে। বাংলাদেশ চীনের সাথে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন এই চুক্তির ফলে এটা আর সম্ভব হবে না।
অনুচ্ছেদ ৪.৩ এর ৫ নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছে:
“বাংলাদেশ এমন কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর, জ্বালানি রড, বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (enriched uranium) ক্রয় করবে না, যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাবশ্যক স্বার্থকে (essential U.S. interests) ঝুঁকির মুখে ফেলে। তবে যেসব মালিকানাধীন (proprietary) উপকরণের ক্ষেত্রে বিকল্প সরবরাহকারী বা বিকল্প প্রযুক্তি নেই, অথবা এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগেই বিদ্যমান রিঅ্যাক্টরের জন্য যে উপকরণ/প্রযুক্তি/উপাদান ক্রয়ের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে—সেসব ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।”
উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে রাশিয়ার রোসাটম (Rosatom) কর্পোরেশন। এই প্রকল্পের জন্য রাশিয়া থেকে জ্বালানি, রড ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আসছে। যেহেতু এই প্রকল্পটি চুক্তির আগে হয়েছে তাই এটা চলমান থাকবে। তবে চীন বা রাশিয়ার সহায়তায় নতুন কোন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপণ করা যাবে না। ফ্রান্স জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো থেকে কেন যাবে, তবে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা উৎসাহিত। অর্থাৎ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের যে কোন পারমাণবিক প্রকল্প মার্কিন বা পশ্চিমা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হবে।
চুক্তির আরও বিষয় নিয়ে হয়তো আলোচনা করা যেত, যেহেতু লেখাটি অনেক বড় হয়ে গিয়েছে সেগুলোতে আর গেলাম না। চুক্তিতে বাংলাদেশকে কি কি বাণিজ্যিক বিবেচনা ইতিমধ্যেই আমলে নিতে বলা হয়েছে সেগুলো উল্লেখ করছি।
১. “বাংলাদেশ তার জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা (বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স) কর্তৃক মার্কিন বেসামরিক বিমান, যন্ত্রাংশ এবং সেবা ক্রয় বৃদ্ধি সহজতর করার জন্য প্রচেষ্টা করবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৪টি বোয়িং বিমান ক্রয় করতে চায়, এবং অতিরিক্ত বিমান কেনার একটি ক্রয়-অপশনও থাকবে।”
অর্থাৎ, বিমান বাংলাদেশকে বোয়িং-এর কাছ থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক বিমান কিনতেই হবে—এয়ারবাস বা অন্যান্য নির্মাতার বিকল্প কমে যাবে।
২. “বাংলাদেশ মার্কিন জ্বালানি ক্রয় করার জন্য, অথবা বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে এই ক্রয় সহজতর করার জন্য প্রচেষ্টা করবে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) ক্রয়ের দীর্ঘমেয়াদি offtake agreement অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যার আনুমানিক মূল্য ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার।”
অর্থাৎ, বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ এলএনজি কিনতেই হবে—এমনকি অন্য দেশে সস্তায় পেলেও।
৩. “বাংলাদেশ তার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে মার্কিন কৃষিপণ্য ক্রয় করার জন্য, অথবা বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে এই ক্রয় সহজতর করার জন্য প্রচেষ্টা করবে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে—
- গম (পাঁচ বছর ধরে প্রতি বছর কমপক্ষে ৭০০,০০০ মেট্রিক টন),
- সয়া ও সয়া-জাত পণ্য (এক বছরে কমপক্ষে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার বা ২.৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন—যেটি কম),
- এবং তুলা (cotton), যার আনুমানিক মোট মূল্য ৩.৫ বিলিয়ন ডলার।”
অর্থাৎ, বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ গম, সয়াবিন ও তুলা কিনতেই হবে—এমনকি ভারত, ইউক্রেন বা ব্রাজিলে সস্তায় পেলেও।
৪. “বাংলাদেশ মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় বৃদ্ধি করার জন্য প্রচেষ্টা করবে এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় সীমিত করবে।”
অর্থাৎ, বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো থেকে অস্ত্র কিনতে হবে, এবং চীন-রাশিয়ার মতো দেশ থেকে অস্ত্র কেনা কমাতে হবে।
৫. “এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ WTO-তে (বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা) তার প্রদত্ত সকল ভর্তুকি (subsidies) সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও সম্পূর্ণ নোটিফিকেশন জমা দেবে—যেমনটি WTO-এর “Agreement on Subsidies and Countervailing Measures” এর অনুচ্ছেদ ২৫.১ অনুযায়ী বাধ্যতামূলক।”
অর্থাৎ, বাংলাদেশের শিল্পনীতি ও ভর্তুকি ব্যবস্থা এখন WTO-র সামনে স্বচ্ছ হতে বাধ্য।
চুক্তিটির প্রায় সব জায়গাতেই “Bangladesh shall” — অর্থাৎ বাংলাদেশকে করতে হবে—এই ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে: এত একপেশে চুক্তি করে বাংলাদেশ কী পেল, আর কী হারাল? বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ এই চুক্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আমেরিকান ব্লকে ঢুকে পড়েছে। একে কেউ “গোলামি” বলতে পারে, কেউ “স্ট্র্যাটেজিক অ্যালাইনমেন্ট”—কিন্তু যাই বলা হোক, এই চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও নীতিনির্ধারণের স্বাধীনতা বড় পরিসরে সীমিত করেছে। বাংলাদেশের কাছে এই চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য একটাই: RMG সেক্টরকে বাঁচানো। চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পারস্পরিক কর ২০% থেকে ১৯%-এ নামানো হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা কিনে উৎপাদন করা হলে এই শুল্ক ০% পর্যন্ত নামতে পারে। কিন্তু এটাও সত্য, যুক্তরাষ্ট্রের তুলা অন্যান্য উৎসের তুলনায় ব্যয়বহুল। অর্থাৎ শুল্ক কমলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার বাস্তব ঝুঁকি থাকবে।
এদিকে ভারতের জন্য শুল্ক ১৮%—বাংলাদেশের চেয়েও ১% কম। অর্থাৎ এই চুক্তি করেও দিনশেষে ভারত তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। বাংলাদেশের RMG সেক্টর সত্যিই কতটা বাঁচবে, সেটা সময়ই বলবে। তবে এই চুক্তির সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হলো—যদি এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়, তাহলে ধ্বংসটা হবে একতরফা: বাংলাদেশের বাজার হারিয়ে যাবে, আর সেই বাজার চলে যাবে ভারত বা ভিয়েতনামের দখলে। চুক্তির আগে ২০% শুল্ক ছিল—সেটাও হয়তো সামাল দেওয়া যেত। কিন্তু চুক্তির ফলে এখন একটি নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে: চুক্তি বাতিল হলে বা যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে বাংলাদেশ তাদের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল নির্ধারিত উচ্চ পারস্পরিক শুল্কহার ৩৭% পুনরায় আরোপ করতে পারবে। অর্থাৎ ভবিষ্যতের কোনো সরকার চাইলেই সহজভাবে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না। বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিলে পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ—বিশেষ করে RMG সেক্টরের জন্য। মাত্র ১% শুল্ক কমানোর বিনিময়ে এত বড় দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি নেওয়া হলো কেন—এই প্রশ্নটা থেকেই যায়।
বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা এই গোলামির চুক্তিতে ব্যক্তিগতভাবে আমার আপত্তি নেই। তবে আমি এই নিশ্চয়তা চাই যে, গোলামি করে হলেও বাংলাদেশ লাভবান হবে। ব্রিটিশ আমলের মতো একতরফা শোষিত হবে না। এই চুক্তি বাংলাদেশের অনেক স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বসিয়ে দেবে, যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোম্পানিগুলো সে ব্যবসাগুলো দখল করে নেবে। আবার কিছু কিছু নতুন ব্যবসারও সূচনা হবে মূলত ওই বৃহৎ মার্কিন ইকোসিস্টেমকে কেন্দ্র করেই। চীনের কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে সাহস করবে না, বা সতর্ক হবে। সে বিনিয়োগগুলো বাংলাদেশ হারাবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ এলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর ডিজিটালাইজেশন হলে কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, তবে এটা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই চুক্তিতে বাঁধা পড়ার দরকার ছিলো না, আমরা নিজেরাই করতে পারতাম। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ওয়ার্ল্ড অর্ডারে একটা বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক নীতির কারণে বিরোধী জোটগুলো ব্রিকস মুদ্রার মতো বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। বিশ্ব রাজনীতির এই টালমাটাল সময়ে একটা পক্ষে চলে যাওয়া আমার কাছে বড় ঝুঁকি বলেই মনে হয়। মাত্র ১% শুল্ক কমানোর জন্য বাংলাদেশের কূটনীতির গতিপথই বদলে দেয়া আমার কাছে যৌক্তিক বলে মনে হয় না।
লেখকঃ শাদমান সাকিব সৌমিক
