চ্যানেল-১৪ ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন সত্যিই কতটা অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল—তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ভোটের দিন দেশের অধিকাংশ কেন্দ্র ফাঁকা থাকলেও নির্বাচন কমিশন দাবি করে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পর্যবেক্ষণ করা সংসদীয় আসনের ৪০ শতাংশে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে।
আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো—২৮.৬ শতাংশ আসনে প্রার্থীরাই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অর্থাৎ অভিযোগগুলো কেবল গুঞ্জন নয়, সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষ থেকেই উত্থাপিত হয়েছে।
পর্যবেক্ষক নিবন্ধন নিয়ে প্রশ্ন
টিআইবির প্রতিবেদনে সবচেয়ে কঠোর সমালোচনা এসেছে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে। সংস্থাটির দাবি, দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও পূর্বে রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে পর্যবেক্ষকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া, একটি অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান একাধিকবার আবেদন করেও নিবন্ধন না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিপরীতে, উপদেষ্টাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত দুটি প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পেয়েছে—যা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে পক্ষপাতের সন্দেহ জোরদার করেছে।
আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের খরচ নির্বাচন কমিশন বহন করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। সমালোচকদের মতে, এতে পর্যবেক্ষকদের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে।
দল নিবন্ধন ও প্রতীক বরাদ্দে অস্পষ্টতা
রাজনৈতিক দল নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগও উঠেছে। টিআইবি বলছে, নতুন নিবন্ধিত কিছু দলের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই যথাযথভাবে করা হয়নি। নিবন্ধনের শর্ত ও যোগ্যতা মানা হয়েছে কি না—তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এছাড়া, নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল।
প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই নিয়ে সন্দেহ
প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি। এসব হলফনামায় প্রার্থীদের আয়-ব্যয়, সম্পদ, ঋণ, দ্বৈত নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ থাকে।
সংস্থাটির প্রশ্ন—এই তথ্যগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না? আয়ের উৎস বৈধ ছিল কি না এবং তথ্যের অসঙ্গতি পাওয়া গেলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—তা স্পষ্ট নয়।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে চাপ
সব মিলিয়ে টিআইবির প্রতিবেদনে নির্বাচন ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতার চিত্র উঠে এসেছে। কেবল ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হওয়াই যথেষ্ট নয়—নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এখন প্রশ্ন—এই অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও জনআস্থা পুনরুদ্ধারে কমিশনের ভূমিকা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ।
