জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত জায়গায় শৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগের প্রতিবাদে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে রাতে তারা নিজেরাই ভিত্তিপূজার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধনের ঘোষণা দেন।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে শুরু হওয়া এই অবস্থান কর্মসূচি রাত ১০টা পর্যন্ত চলে। কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা দেবদেবীর ছবি ও পূজাসামগ্রী নিয়ে মন্দিরের প্রস্তাবিত স্থানে ভিত্তিপূজা করেন এবং সেখানে রাত্রিযাপনের সিদ্ধান্ত নেন।
দিনভর কর্মসূচি চলাকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ভিপি, জিএস, এজিএসসহ শিবির সমর্থিত কেন্দ্রীয় নেতাদের কাউকে পাশে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তবে জকসুর ছাত্রদল–ছাত্র অধিকার প্যানেলের নির্বাচিত দুজন সম্পাদক এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগের নিন্দা জানান।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী অবন্তী রায় বলেন, “আমরা ২১ জন প্রতিনিধি নির্বাচন করেছি। কিন্তু সারাদিনে মাত্র দুই–তিনজনকে পেয়েছি। বাকিরা কেউ আসেনি। তাহলে কি আমরা ধরে নেব, সনাতনীদের ছাড়াই জকসু হয়েছে?”
বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান তথ্য ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী উজ্জ্বল চন্দ্র দাস বলেন, “আমরা বারবার প্রশাসনের কাছে মন্দির স্থাপনের যৌক্তিক দাবি জানিয়েছি। কিন্তু নানা অজুহাতে শেষ পর্যন্ত সেখানে শৌচাগার নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। কোনো সাড়া না পেয়ে আজ আনুষ্ঠানিকভাবেই কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছি।”
দিনভর মুক্তমঞ্চে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা ‘মন্দির আমার অধিকার’, ‘প্রশাসন লজ্জা লজ্জা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
জবি শাখা শ্রীচৈতন্য শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংঘের সাধারণ সম্পাদক অজয় পাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ সনাতনী শিক্ষার্থী থাকলেও এখনো কোনো কেন্দ্রীয় মন্দির নেই। “বারবার স্মারকলিপি দেওয়ার পরও যখন জায়গার অভাবের কথা বলা হলো, আমরা নিজেরাই মুক্তমঞ্চের পাশের জায়গাটি প্রস্তাব করি। পরে সেখানে টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়,” বলেন তিনি।
ছাত্র ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রিয়ন্ত স্বর্ণকার বলেন, প্রশাসনকে অবহিত না করেই মন্দিরের প্রস্তাবিত জায়গায় শৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা তারা ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখছেন।
জবি সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের সভাপতি সুমন কুমার দাস বলেন, প্রশাসন অনুমতি না দিলে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করবেন—এ সিদ্ধান্ত আগেই জানানো হয়েছিল।
জকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাকরিম আহমেদ বলেন, সনাতনী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এই দাবি ধর্মীয় অধিকার ও সাংবিধানিক স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রস্তাবিত স্থানে ওয়াশরুম নির্মাণের সিদ্ধান্তকে তিনি অসংবেদনশীল বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে জকসুর পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হোসেন বলেন, বারবার জায়গা ও অর্থের অজুহাতে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়া হলেও একই জায়গায় শৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সনাতন শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বলে তারা মনে করছেন।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম এবং জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
