ফোরটিন ডেস্ক : “আমি মরি নাই! আমি মিজানুর রহমান সোহেল। পেশায় লেখক ও সাংবাদিক। এবং হ্যাঁ, আমি এখনো জীবিত আছি।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এভাবেই নিজের বেঁচে থাকার কথা আকুল কণ্ঠে জানালেন সাংবাদিক ও লেখক মিজানুর রহমান সোহেল।
ঢাকার অভিজাত হোটেল ওয়েস্টিনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক প্রেজেন্টেশনে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই হবিগঞ্জে ‘শহীদ’ হওয়া সাংবাদিক সোহেল আকাঞ্জির নামের জায়গায় মিজানুর রহমান সোহেলের ছবি ব্যবহার করার পর এই অদ্ভুত ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ডেমোক্রেটিক জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স (ডিজেএ) আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার (১৭ আগস্ট, ২০২৬) সকালে। হোটেল ওয়েস্টিনের বলরুমে সাংবাদিকদের ভূমিকা ও আত্মত্যাগ নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী সাংবাদিকদের স্মরণে একটি ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন প্রদর্শন করা হয়। সেখানে দেখা যায়, শহীদ সাংবাদিকের বিবরণের সাথে বিশাল পর্দায় ঝুলছে জীবিত সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেলের ছবি।
বিষয়টি মুহূর্তেই নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে সোহেলের কাছে পরিচিতজন, সহকর্মী ও স্বজনদের একের পর এক ফোন আসতে শুরু করে। এমনকি অনেকে শোক প্রকাশ ও উদ্বিগ্ন কণ্ঠে তিনি বেঁচে আছেন কি না জানতে চান।
ঘটনায় তীব্র বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করে সোহেল বলেন, এটি সাধারণ কোনো তথ্যগত ভুল নয়। এর সঙ্গে একজন মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত পরিচয় জড়িত। যে সাংবাদিকেরা সত্য তুলে ধরতে জীবন বাজি রাখলেন, তাদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানেই এমন অপেশাদার ও যাচাইহীন তথ্য প্রদর্শন অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রেজেন্টেশন তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় নাম ও ছবি মেলাতে কারো মনে একবারও সত্যতা যাচাইয়ের প্রশ্ন কেন জাগলো না? তিনি কারও ওপর সরাসরি অভিযোগ না এনে আয়োজকদের থেকে দায়িত্বশীল ব্যাখ্যা এবং দ্রুত এই ভুলের সংশোধন দাবি করেছেন।
