ফোরটিন ডেস্ক : ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন জেলখানা ভেঙে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দীর মধ্যে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও এখনো ৬৯০ জন বিপজ্জনক বন্দী অধরা রয়েছেন। একই সঙ্গে নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৮২৬ জনের মধ্যে ১৬৬ জন বন্দীর ব্যাপারে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহার হোসেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট, ২০২৬) দুপুরে কারা সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত এসব তথ্য তুলে ধরেন কারা প্রধান।
আইজি প্রিজন্স সৈয়দ মোতাহার হোসেন বলেন, আন্দোলনকেন্দ্রিক বিশৃঙ্খলার সুযোগে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দী পালিয়ে যান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় ১ হাজার ৫৫৭ জনকে পুনরায় আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তবে বাকি ৬৯০ জনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নরসিংদী কারাগার প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়া ৮২৬ বন্দীর মধ্যে ৬৬০ জনের সন্ধান মেললেও বাকি ১৬৬ জনের ব্যাপারে কোনো তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
কারাগারে ভিআইপিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের ৭৫টি কারাগারে বন্দীদের খাবারে মান নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং কাউকে অন্যায্য সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ২১টি কারাগার দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
কারাগারে মাদক সরবরাহ ও আর্থিক দুর্নীতির বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মহাপরিদর্শক বলেন, অসাধু কারারক্ষীদের অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে। অপরাধে জড়িতদের সরাসরি মামলায় পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় গত দুই বছরে অনিয়মের অভিযোগে ২১ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৮২ জনকে চাকরিচ্যুত এবং ৮৭০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
