নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের আইসিটিতে চিফ প্রসিকিউটরের ‘স্পেশাল অ্যাডভাইজার’ হিসেবে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ টোবি ক্যাডম্যান আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। তিনি এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তার সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করেছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই ক্যাডম্যানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, চলমান বিচার প্রক্রিয়াকে ক্যাডম্যান ‘একপাক্ষিক’ হিসেবে দেখছিলেন। এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকতে গিয়ে তিনি নিজেকে ‘বিব্রত’ ও ‘লজ্জিত’ মনে করছিলেন বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। তার মতে, বর্তমান কাঠামোতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই পদত্যাগের সময়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। জুলাই ২০২৪–এর ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থান ও শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামীকাল একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে যাচ্ছে। রায়ের ঠিক আগের দিন ক্যাডম্যানের সরে দাঁড়ানো ট্রাইব্যুনালের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
জুলাই গণহত্যার বিচার যেন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়—সে লক্ষ্যেই ক্যাডম্যানের মতো বিশেষজ্ঞকে যুক্ত করা হয়েছিল। তার আকস্মিক প্রস্থান প্রসিকিউশন টিম ও সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন—এই পদত্যাগ ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী কার্যক্রমে কী প্রভাব ফেলবে।
