চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন র্যাব সদস্যরা। সন্ত্রাসীদের আক্রমণে নিহত হয়েছেন র্যাব কর্মকর্তা নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব। হামলাকারীরা প্রথমে তাঁর সরকারি অস্ত্র কেড়ে নিয়ে পায়ে গুলি করে, পরে মাটিতে পড়ে গেলে লাঠি, রড ও কাঠ দিয়ে পিটিয়ে ঘটনাস্থলেই হত্যা করে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযানে গিয়ে এই ঘটনা ঘটে। একই হামলায় র্যাবের আরও দুই সদস্য কনস্টেবল আরিফ, নায়েক ইমাম এবং একজন সোর্স গুরুতর আহত হন। আহতদের চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।
র্যাব-৭-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় নায়েব সুবেদার মোতালেব প্রাণ হারান।
র্যাব সূত্র জানায়, সশস্ত্র এক আসামি একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কার্যালয়ে আত্মগোপনে রয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ সদস্যের একটি দল সেখানে যায়। চারজন ভেতরে প্রবেশ করার পরপরই ২০–২৫ জন সন্ত্রাসী চারদিক থেকে ঘিরে ধরে তাদের ওপর নৃশংস হামলা চালায়।
সূত্র মতে, সন্ত্রাসীরা র্যাব সদস্যদের মারধর করে মাটিতে ফেলে দেয়। এর মধ্যেই মোতালেবকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়, যাতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
পরবর্তীতে র্যাবের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সলিমপুর-লিংক রোডসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের সময় আশপাশে সাধারণ মানুষের উপস্থিতির আশঙ্কায় তারা গুলি চালাননি। এই সুযোগে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে সরাসরি প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালায়।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।
নিহত নায়েব সুবেদার মো. মোতালেবের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জঙ্গল সলিমপুর এলাকা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় ও খাসজমি দখল, সন্ত্রাসী তৎপরতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কারণে উত্তপ্ত। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেখানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও হামলার ঘটনা বাড়ছে।
