১৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকার লালমাটিয়ায় এক স্কুলছাত্র (১৬) হাফপ্যান্ট পরায় হামলার শিকার হয়েছেন।
গত বুধবার সন্ধ্যায় কোচিং থেকে ফেরার পথে দুজন অচেনা তরুণ তাকে গালিগালাজ ও শারীরিক আক্রমণ করে। এই ঘটনা সমাজে পোশাকের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
হামলার শিকার এই কিশোর লালমাটিয়ার এক ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ফুটবল অনুশীলনের জন্য জার্সি ও হাফপ্যান্ট পরে সরাসরি কোচিংয়ে গিয়েছিল। কোচিং থেকে ফেরার পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ২২-২৩ বছর বয়সী দুই তরুণ তার মাথায় আঘাত করে। তারা প্রশ্ন তোলে, “তুই হাফপ্যান্ট পরছোস ক্যান? তোর বাড়িতে পাজামা নাই?” কিশোরটি ফুটবল অনুশীলন থেকে আসার কথা জানালে তাকে অকথ্য গালিগালাজ করে আক্রমণ করা হয়।
কিশোরের মা, যিনি পূর্বে সাংবাদিকতা করতেন, প্রথম আলোকে জানান যে তার ছেলে এই ঘটনায় বিষাদগ্রস্ত (ট্রমাটাইজড)। হাফপ্যান্ট পরায় ছেলের ওপর এমন হামলা মানতে পারছেন না তিনি, প্রশ্ন করেন, “এটা কোন দেশে বাস করছি!” ঘটনার পর এখন ছেলেকে ফুটবল অনুশীলনে পাঠানোর সময় ব্যাগে পাজামা দেন তিনি। ছেলে তার বাবাকে প্রশ্ন করেছে, “বাবা, হাফপ্যান্ট পরা কি ক্রাইম (অপরাধ)?”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল আই খান এই ঘটনাকে দেশের এক সাংস্কৃতিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, “বর্তমানে দেশে এক ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটছে, যেখানে আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী তাদের পছন্দ জোর করে চাপাতে চাইছে।” অধ্যাপক খান আরও উল্লেখ করেন, “নানা অজুহাতে অন্যের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে জুলুমবাজি করা হচ্ছে।” তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক সংকট বাড়ায় এবং সরকারসহ সমাজের প্রত্যেকের এর মোকাবিলায় দৃঢ় ভূমিকা রাখা উচিত।
এর আগে পোশাকের কারণে নারী আক্রান্ত হওয়া বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ক্যান্টিনে কর্মীদের হাফপ্যান্ট পরা নিয়ে আপত্তির ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। বর্তমান ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। কিশোরের বাবা দ্রুত সেখানে পৌঁছালেও হামলাকারীদের ধরা সম্ভব হয়নি।