রিমেম্বার মাই ওয়ার্ডস
অনেক ডামাডোলের মাঝে ইউনুস সাহেব ঠিকই তার নিয়োগকর্তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ক্ষমতা ছেড়ে যাওয়ার আগে যা বাকি আছে সেগুলোও করবে। আর এদিকে বয়ান দিচ্ছে দেড় বছরে তার সরকার যা করেছে আগের কেউ সেটা করতে পারেনি। অবশ্য ঠিকই বলেছে, এতো অল্প সময়ে এমনভাবে দেশের ১২ টা আর কেউই বাজাতে পারেনি।
গত ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ বিমান ১৪ টি বোয়িং এয়ারক্রাফট কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। এর মাঝে রয়েছে ৮ টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২ টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ও ৪ টি বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের এয়ারক্রাফট। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত রিসিপ্রোক্যাল ট্যাক্স কমানোর জন্য এই অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার এনডিএর এর মোড়কে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তিতে কি আছে দেশবাসীকে জানানো হয়নি। তবে গণমাধ্যমেই প্রকাশিত হয়েছিলো এতে ২৫ টি বোয়িং বিমান কেনার শর্ত ছিলো।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শেষে দেশে ফিরে গত ২ আগস্ট বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন দাবি করেছিলেন শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার আলোচনায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি ‘একবারও’ আলোচনায় আসেনি। তিনি আরো দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বোয়িং বিমান বিক্রির বিষয়ে সিরিয়াস মনে হয়নি।
অথচ মাত্র চারমাসের মাথায় গত ২৪ নভেম্বর বোয়িং আনুষ্ঠানিকভাবে বিমান বিক্রি, অন্যান্য শর্তাবলী ও সেগুলো ডেলিভারির বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠায়। এবং তার মাত্র একমাসের মাঝেই ১৪ টি বোয়িং ক্রয়ের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ বিমান। এখন প্রশ্ন করতে পারেন, বোয়িং বিমান ক্রয় করলে সমস্যা কি? সমস্যা বহুমাত্রিক।
সহজ ভাষায় নিচে উল্লেখ করলাম।
ক। প্রথমত এটি প্রমাণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এনডিএর মোড়কে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে সে বিষয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা তথা অন্তর্বর্তী সরকার সর্বাগ্রে মিথ্যাচার করেছে। এই চুক্তির সব কয়টি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াস এবং তারা সেগুলো যেকোন মূল্যে আদায় করে ছাড়বে।
খ। এই ২৫ টি বোয়িং বিমান ক্রয় বর্তমান প্রেক্ষিতে অপ্রয়োজনীয়। বাংলাদেশ বিমানের বহরে মোট বিমান আছেই ২১ টি যার মাঝে ১৬ টি বিভিন্ন মডেলের বোয়িং বিমান (চারটি ভাড়ায় আনা)। যাত্রীর অভাবে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক রোডে বিমানের যাত্রী পরিবহন ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এমতাবস্থায় একসঙ্গে এতোগুলো এয়ারক্রাফট ক্রয় বাস্তবতা বিবর্জিত সিদ্ধান্ত।
গ। ১৪ টি এয়ারক্রাফটের সম্ভাব্য ক্রয়মূল্য প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ত্রিশ হাজার কোটি টাকা। তার উপর যোগ হবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষন খরচ। নিঃসন্দেহে এটি দেশের অর্থনীতির উপর বিরাট চাপ ফেলবে।
ঘ। গত নভেম্বরের শুরুতে ফ্রান্স দূতাবাসে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা একযোগে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, উড়োজাহাজ কেনার আলোচনায় যেন এয়ারবাসকে ‘যৌক্তিকভাবে’ বিবেচনা করা হয়।
তারা ইউরোপে কয়েক বিলিয়ন ইউরোর বাংলাদেশি পণ্যের বাজার, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ, যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং দীর্ঘ অংশীদারত্বের কথা মনে করিয়ে দেন বারবার। এখন যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে শুল্ক আরোপ করে বোয়িং কিনতে বাধ্য করেছে সেভাবে ইউরোপের দেশগুলোও বাংলাদেশী পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে এয়ারবাস কেনার জন্য চাপ দিতে পারে। অথবা অন্যকোন নেতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারে যার ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই তারা দিয়েছে। নিঃসন্দেহে তা আমাদের অর্থনীতির উপর বিশাল নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ডঃ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এই জনবিরোধী অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার কত ভাবে যে দেশের ক্ষতি করে যাচ্ছে তা এখনো মানুষ বুঝতে পারছে না। এরা দীর্ঘমেয়াদে দেশকে একেবারে পঙ্গু করে দিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে যারাই সরকারে আসুক তাদেরকেই এর মাশুল দিতে হবে। দিনশেষে ক্ষতিগ্রস্থ হবে দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
