নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নেতা সরোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি, শিক্ষাগত অযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন লেখক ও শিক্ষাবিদ আমিনুল ইসলাম।
ডা. তাসনিম জারাকে নিয়ে তুষারের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, সরোয়ার তুষারের নামে একাধিক নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে এবং এ বিষয়টি তার নিজ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও আলোচনার বিষয়। তিনি লেখেন, তুষারের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ এনসিপির ভেতরেও গোপন নয়।শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তোলেন আমিনুল ইসলাম।
তার ভাষায়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করতে না পারা একজন ব্যক্তি কীভাবে অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজে পড়াশোনা করা তাসনিম জারার যোগ্যতা নিয়ে মন্তব্য করতে পারেন সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু ব্যক্তি ক্ষমতার কাছাকাছি গিয়ে প্রভাব খাটিয়ে চাকরি ও পদায়নে অনৈতিক সুবিধা দিয়েছেন। আমিনুল ইসলামের অভিযোগ, যারা কিছুদিন আগেও চাকরির সন্ধানে ছিলেন, তারা এখন রাজনৈতিক পরিচয়ের জোরে নিয়োগ ও সুপারিশ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন।তিনি মন্তব্য করেন, যোগ্যতার বিচারে সরোয়ার তুষার তাসনিম জারার ব্যক্তিগত সহকারী হওয়ারও উপযুক্ত নন, অথচ রাজনৈতিক ক্ষমতার বলয়ে ঢুকে ‘ভাই-ব্রাদার’ সিন্ডিকেট গড়ে প্রভাব বিস্তার করছেন।
আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, এনসিপির রাজনীতির বাইরে সরোয়ার তুষারের কোনো সামাজিক বা পেশাগত পরিচিতি ছিল না। বৈষম্যহীন সমাজের কথা বলা হলেও বাস্তবে দলটির ভেতরেই ক্ষমতার অপব্যবহার ও দলবাজির চর্চা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সরোয়ার তুষার বা এনসিপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আমিনুল ইসলামের এই স্ট্যাটাস প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরোয়ার তুষারের ব্যক্তিগত চরিত্র, রাজনৈতিক যোগ্যতা এবং এনসিপির অভ্যন্তরীণ নৈতিকতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
