চব্বিশের কোটাবিরোধী আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকেই এর পেছনে জামায়াতে ইসলামীর প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল। তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যেই সে অভিযোগ তুলেছিল। তবে সরকার পতনের পর নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সে সময় এ ধরনের দাবি নাকচ করে দেয়।
এক বছর না ঘুরতেই বিতর্ক নতুন মাত্রা পায়। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের প্রকাশ্যে বলেন, নাহিদ ইসলামরা জামায়াতেরই তৈরি। তখন এনসিপির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। এমনকি ভোটের সমীকরণ শুরু হওয়ার পর এনসিপি নেতাদের মুখে শোনা যায়, একটি ভোট না পেলেও জামায়াতের মতো দলের সঙ্গে জোটে যাবে না তারা।
কিন্তু সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সেই অবস্থান বদলাচ্ছে। আন্দোলনের সময়কার সহযোদ্ধা আবদুল কাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে জোট গঠনের পথে হাঁটছে এনসিপি।
এর আগে বিএনপির সঙ্গে এনসিপির আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়নি। চলতি মাসের শুরুতে এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে সঙ্গে নিয়ে তিন দলের ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ গঠনের ঘোষণা আসে। তখন বলা হয়েছিল, বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলাই লক্ষ্য। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করছেন, এনসিপি বিএনপি ও জামায়াত উভয় দিকেই আলোচনা চালিয়ে আগের বোঝাপড়া ভঙ্গ করেছে। দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভুঁইয়া বলেন, তৃতীয় শক্তি গঠনের ঐকমত্য থাকলেও এনসিপির সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী।
আবদুল কাদের তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে সরাসরি জোট বাঁধতে যাচ্ছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তার দাবি অনুযায়ী, প্রথমে ৫০টি আসনের দাবি জানালেও দর–কষাকষির পর ৩০টি আসনে সমঝোতা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বাকি আসনগুলোতে এনসিপি প্রার্থী দেবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এমনকি নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারেন এমন আলোচনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এই সম্ভাব্য জোট নিয়ে এনসিপির ভেতরেই প্রকাশ্য মতভেদ শুরু হয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার বিরোধিতা করে দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান।
পদত্যাগপত্রে মীর আরশাদুল হক বলেন, জুলাই এ তথাকথিত আন্দলনের পর নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে এনসিপি যাত্রা শুরু করেছিল, তা বাস্তবায়নে দলটি ব্যর্থ হয়েছে। তার ভাষায়, দল ভুল পথে এগোচ্ছে এবং সে পথে থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী) আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচন করবেন না বলে জানান।
এ বিষয়ে এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জোট রাজনীতির এই সম্ভাব্য রদবদল দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
