সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিক আনিস আলমগীরের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার লন্ডনভিত্তিক অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ আহ্বান জানান সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক গবেষক রিহাব মাহমুর।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত রোববার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরদিন উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশীতা ইসলাম তাকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
অ্যামনেস্টির ভাষ্য অনুযায়ী, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচার চালানোর অভিযোগে আনিস আলমগীরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং এর ভিত্তিতেই ১৫ ডিসেম্বর তাকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে রিহাব মাহমুর বলেন, আনিস আলমগীরের গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থনের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করার একটি উদ্বেগজনক প্রবণতার অংশ। তার মতে, ভিন্নমত বা মতামত প্রকাশকারীদের কণ্ঠরোধ করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার না করে অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বাক্স্বাধীনতা ও সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে নির্বাচনের প্রাক্কালে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে জাতিসংঘের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার–সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতা সম্মান করতে হবে এবং দ্রুত আনিস আলমগীরকে মুক্তি দিতে হবে।
এদিকে আদালতে দেওয়া বক্তব্যে আনিস আলমগীর নিজেকে একজন স্বাধীন সাংবাদিক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাবানদের প্রশ্ন করে আসছেন এবং কারও কাছে মাথা নত করা তার পেশাগত নীতি নয়।
