এটা যেন কোনো হলিউড সিনেমার দৃশ্য। নিরস্ত্র মানুষের ওপর এলোপাথাড়ি গুলি, চারদিকে আতঙ্ক। ঠিক সেই মুহূর্তে জীবন বাজি রেখে বন্দুকধারীর দিকে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এক সাধারণ মানুষ।
রোববার সন্ধ্যায় অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে এমনই এক ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক পথচারী এক বন্দুকধারীকে পেছন থেকে জাপটে ধরে নিরস্ত্র করেন। সেই সাহসিকতায় প্রাণে বাঁচেন বহু মানুষ।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সাহসী ওই পথচারীর নাম আহমেদ আল আহমেদ। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রাতারাতি তিনি অস্ট্রেলিয়ার ‘হিরো’তে পরিণত হয়েছেন।
সিডনি পুলিশ জানিয়েছে, বন্ডাইয়ের এই হামলায় এখন পর্যন্ত একজন বন্দুকধারীসহ মোট ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অন্তত ৩৮ জন। নিহত বন্দুকধারীর বয়স আনুমানিক ৫০ বছর।
নিউ সাউথ ওয়েলসের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রায়ান পার্ক এবিসি নিউজকে বলেন, চারজন শিশুকে সিডনি চিলড্রেনস হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পুরো অভিযানে প্রায় ১০০ জন অ্যাম্বুলেন্স কর্মী কাজ করেছেন।
ঘটনার ১৫ মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা শার্ট পরা আহমেদ প্রথমে গাড়ির আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন। পরে সুযোগ বুঝে তিনি পার্কিং লটে বন্দুকধারীর পেছনে গিয়ে গলা চেপে ধরেন। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। তখন আরেক পথচারী এগিয়ে এসে বন্দুকটি কেড়ে নেন।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বন্দুকটি মাটিতে পড়ে গেলে এক পথচারী সেটি তুলে নিয়ে বন্দুকধারীর দিকেই তাক করেন। পরে আহমেদ বন্দুকটি একটি গাছের সঙ্গে ঠেস দিয়ে রেখে সরে যান। একই সময় অদূরে একটি সেতু থেকে আরেক বন্দুকধারী গুলি ছুড়ছিল।

অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম সেভেন নিউজকে আহমেদের চাচাতো ভাই মুস্তফা বলেন, ৪৩ বছর বয়সী আহমেদ দুই সন্তানের বাবা, পেশায় ফল ব্যবসায়ী। বন্দুক চালানো সম্পর্কে তার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। হামলায় আহমেদের শরীরে দুটি গুলি লাগে একটি বাহুতে, অন্যটি আঙুলে।
“আমরা খুব চিন্তায় আছি। ভেতরে কী হচ্ছে জানি না। তবে সে শতভাগ একজন নায়ক,” বলেন মুস্তফা।
রোববার ইহুদিদের বার্ষিক ‘হানুক্কাহ’ উৎসব উপলক্ষে বন্ডাই সৈকতে এক হাজারের বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই জমায়েতকেই লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। হামলাকারীদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে বলেন, একজন অস্ট্রেলীয় ইহুদির ওপর হামলা মানে পুরো অস্ট্রেলিয়ার ওপর হামলা। বন্দুকধারীকে নিরস্ত্র করতে যাঁরা এগিয়ে এসেছেন, তাঁদের তিনি ‘বীর’ আখ্যা দেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনসও একইভাবে সাহসী পথচারীদের প্রশংসা করেছেন।
বন্ডাইয়ের সেই সন্ধ্যায়, অস্ত্র নয় মানুষের সাহসই হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ।
