নিজস্ব প্রতিবেদক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কাজী মোহাইমিনুল ইসলাম শিক্ষকের বিরুদ্ধে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ তুলে একটি আবেগঘন ‘সুইসাইড নোট’ লিখে নিখোঁজ হয়েছেন। এই ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করলেও, অভিযোগের মুখে থাকা সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানকেই কমিটির সদস্য করায় নিরপেক্ষতা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
নিখোঁজ মোহাইমিনুলের সহপাঠীদের সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য একটি বিশেষ (স্পেশাল) পরীক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ড. হুসাইন মো. সায়েম তাঁকে পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক জটিলতার নামে ৬ মাস ধরে হয়রানি করা হয়। প্রথম দফায় তাঁর আবেদনপত্র হারিয়ে যাওয়ার পর পুনরায় নিজে গিয়ে স্বাক্ষর সংগ্রহ করার পর গত সপ্তাহে রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে পরীক্ষা নেওয়ার অনুমোদন মেলে।
তবে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. হুসাইন মো. সায়েম হঠাৎ জানান, আসন্ন ছুটির কারণে প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় আপাতত পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয় এবং তাঁকে পরবর্তী ব্যাচের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে হবে। এতে মাস্টার্স পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়লে চরম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মোহাইমিনুল। ওই দিন দুপুরে তিনি কক্ষে একটি সুইসাইড নোট রেখে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
উদ্ধারকৃত সুইসাইড নোটে মোহাইমিনুল লেখেন, “এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আমার হাতে অন্য কোনো অপশন নাই শুধু মৃত্যু ছাড়া। কারণ তারা আমাকে এই দিকে ঠেলে দিয়েছে। ক্যাম্পাসে অভিভাবক হলো শিক্ষক, কিন্তু যারা নিজেরাই ভালো বাবা-মা হতে পারে নাই তারা আবার শিক্ষক। ৬ মাস নাটক করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে আমাকে…”
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশে গাণিতিক ও পদার্থবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহবুব কবিরকে সভাপতি, সহকারী প্রক্টর আল আমিন ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার সোহেল রানাকে সদস্য করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু এ কমিটিতে অভিযুক্ত বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. হুসাইন মো. সায়েমকে সদস্য হিসেবে রাখায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করার বিষয়টি সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তদন্ত কমিটির বিতর্কিত বিষয়টি পর্যালোচনা করে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের নিশ্চয়তা দিয়েছেন তিনি।
