নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পারসওতা হযরত শাহ সুফি বাঘু দেওয়ান (রহ.) আলিম মাদ্রাসায় নিয়োগ পেয়েও নিজে ক্লাস না করে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাফিউল ইসলাম জীবনের বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২০ অনুযায়ী ‘পরিশ্রম অর্জিত আয়’ সুসংহত করার নীতি এবং এনটিআরসিএ ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী জালিয়াতি বা প্রক্সি প্রথার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি শাস্তির বিধান রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এবং বাঘা উপজেলা প্রশাসন মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫ সালে এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকে জীবন নিজে ক্লাসে উপস্থিত না হয়ে তার মামা আসমত আলীকে দিয়ে নিয়মিত ক্লাস করাচ্ছেন।
রাকসু নির্বাচনের প্যানেলভুক্ত এই ছাত্রদল নেতা স্বীকার করেছেন যে, মাস্টার্স শেষ না হওয়ার অজুহাতে তিনি প্রিন্সিপালের মৌখিক অনুমতি নিয়ে মামাকে দিয়ে ক্লাস করাচ্ছেন এবং মাদ্রাসার প্রাপ্ত বেতনের অর্ধেক অর্থ তাকে দিয়ে দিচ্ছেন।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বজলুল করীম ও পরিচালনা কমিটি শুরু থেকেই বিষয়টির তোয়াক্কা না করে নিয়মবহির্ভূত প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রমে নীরব সম্মতি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তকী ফয়সল তালুকদার জানিয়েছেন, প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানোর কোনো আইনি সুযোগ নেই এবং বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতি রোধে এনটিআরসিএ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
