নিজস্ব প্রতিবেদক
সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে আকাশপথে। বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাজনিত কারণে রাজধানী ঢাকা থেকে রিয়াদ, দাম্মাম ও জেদ্দাগামী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের অন্তত ৫১টি ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
ফ্লাইট বাতিলের ফলে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৫ হাজার ৪১৮ জন বাংলাদেশি প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকা পড়েছেন।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার থেকে শুরু করে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকাগামী ও ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকা এসব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এয়ারলাইন্সগুলো ভবিষ্যতে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি চলাচলকারী বিমানের ৪টি, ইউএস-বাংলার ২ টি এবং সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স ও রিয়াদ এয়ারের ৩টি করে মোট ১২টি ফ্লাইট রয়েছে। পাশাপাশি ট্রানজিট সংযোগের ৩৯টি ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে ইন্ডিগো ১৬টি, এমিরেটস ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজ ৫টি, ফ্লাইদুবাই ৫টি, সালামএয়ার ৩টি এবং ইজিপ্টএয়ারের ১টি ফ্লাইট পরিচালনা করার কথা ছিল।
সংকট ও বিমানবন্দর অচল হওয়ার সূত্রপাত ঘটে গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে হুথিদের নিক্ষিপ্ত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণের মাধ্যমে। ভয়াবহ ওই হামলায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসী সহ মোট ১৩ জন নিহত এবং অন্তত ৩০৮ জন গুরুতর আহত হন। নিহতদের মধ্যে সৌদি নাগরিক ছাড়াও ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের নাগরিক ছিলেন।
ওই ঘটনার পরদিন রোববার আবারও একই বিমানবন্দর ও পূর্বাঞ্চলীয় দাম্মাম বিমানবন্দর এবং তেল স্থাপনাকে নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় হুথিরা। দ্বিতীয় দিনের হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং ১১ জন আহত হন।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক হুমকির বার্তায় সতর্ক করে জানিয়েছেন, পবিত্র মক্কা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যতীত সৌদি আরবের সমস্ত সামরিক, বেসামরিক বিমানবন্দর ও আকাশসীমা তাদের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু। উদ্ভূত পরিস্থিতে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো একের পর এক সৌদিগামী ফ্লাইট স্থগিত করছে।
