নিজস্ব প্রতিবেদক
বৈষম্যবিরোধী জুলাই আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে রিকশাচালক তুহিন হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর পুনরায় জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাঁর এই জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালতের কার্যক্রম শেষ করে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার সময় সেলিনা হায়াৎ আইভী উচ্চকণ্ঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন এবং ‘জয় বাংলা, দাবিয়ে রাখা যাবে না’ উচ্চারণ করেন, যা আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আইনজীবী, সাংবাদিক ও সমর্থকদের মধ্যে চরম কৌতূহল ও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এর আগে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে কড়া পুলিশি প্রহরায় আইভী আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান। শুনানিকালে আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, মামলাটির সুনির্দিষ্ট তদন্ত শেষে পুলিশ ইতিমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইন্যাল রিপোর্ট) দাখিল করেছে। তদন্তে বিস্ফোরকের কোনো আলামত বা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সেলিনা হায়াৎ আইভীর কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। এছাড়া আদালতের নোটিশ সত্ত্বেও মামলার বাদী ও নিহতের স্ত্রী আলেয়া আক্তার মিমি শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে আগের জামিনের ধারাবাহিকতায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ ও আইভীর পুনরায় জামিন মঞ্জুরের আবেদন জানানো হয়।
অন্যদিকে জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাকির হোসেন আদালতে জানান, পুলিশি চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তারা নারাজি আবেদন (নো-কনফিডেন্স পিটিশন) দাখিল করবেন। এ নিয়ে দুপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়। শুনানি শেষে বিচারক আবু শামীম আজাদ আইভীর পুনরায় জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই জুলাই আন্দোলনের সময় সিদ্ধিরগঞ্জের ব্র্যাক ব্যাংকের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গুলিবিদ্ধ হয়ে রিকশাচালক তুহিন নিহত হন। উক্ত ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে প্রধান আসামি এবং সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ১১ নম্বর আসামি করা হয়েছিল।
