নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর : বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে দেখার উদ্দেশ্যে এসে নাটোর রেলস্টেশনে জালিয়াতির শিকার হয়ে নিজের সমস্ত মূল্যবান মালামাল হারিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার উইবার। গত বুধবার বিকেল ৫টার দিকে নাটোর রেলস্টেশনের ওয়েটিং রুমে পরিচিত হওয়া এক অজ্ঞাত যুবকের প্রতারণার শিকার হয়ে তিনি ল্যাপটপ, ক্যামেরাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র খোয়ান।
বগুড়ার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন শেষে সান্তাহার স্টেশন থেকে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনে চেপে নাটোর রেলস্টেশনে এসে পৌঁছান ইউক্রেন বংশোদ্ভূত এই পর্যটক।
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ অনুযায়ী এ দেশে অবস্থানরত যেকোনো বিদেশি নাগরিকের জীবন, মান ও অর্জিত সম্পদের পূর্ণ আইনি সুরক্ষা প্রাপ্তি মৌলিক অধিকার। একই সাথে চুরি ও প্রতারণামূলক বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির (Penal Code, 1860) সংশ্লিষ্ট ধারায় কঠোর শাস্তির আইনি বিধান রয়েছে।
রেলওয়ে পুলিশ (GRP), জেলা পুলিশ এবং বাংলাদেশ পর্যটন পুলিশ দেশের সীমানায় ভ্রমণরত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে নিয়োজিত রয়েছে।
ভুক্তভোগী ক্রিল ল্যান্ডারের ভাষ্যমতে, ভারত ভ্রমণের উদ্দেশে দর্শনা যাওয়ার বিরতিতে নাটোর স্টেশনের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষাকালে এক যুবকের সাথে তাঁর পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠে।
পরবর্তীতে ওই অজ্ঞাত যুবক কৌশলে সুযোগ বুঝে বিদেশি পর্যটক উইবারের ব্যাগ, ল্যাপটপ, প্রফেশনাল ক্যামেরা ও প্রয়োজনীয় তথ্যপঞ্জি নিয়ে চম্পট দেয়।
সবকিছু হারিয়ে স্টেশনে অসহায়ভাবে কান্নায় ভেঙে পড়লে স্থানীয় রেলকর্মীদের পরামর্শে তিনি নাটোর সদর থানায় উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনছুর রহমান জানিয়েছেন, বিচারিক এখতিয়ার রেলওয়ে পুলিশের অধীন হওয়া সত্ত্বেও বিদেশি নাগরিকের সার্বিক সুরক্ষার তাগিদে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
