নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকালীন ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় ট্রাকচালক হোসেন হত্যা মামলার অভিযোগ গঠন শুনানিকালে আদালতের সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে ছয়তলায় ওঠানোর ঘটনায় বিচারকের কাছে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। একই সাথে মানবিক দিক বিবেচনা করে হাত পেছনে না বেঁধে সামনের দিকে রেখে হ্যান্ডকাফ পরানোর জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ রবিউল আলমের আদালতে উক্ত মামলার নির্ধারিত শুনানিকালে আসামিপক্ষে দাঁড়িয়ে ক্ষোভের সাথে এই আর্জি পেশ করেন পলক।
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ এবং অনুচ্ছেদ ৩৫(৫) অনুযায়ী যেকোনো অভিযুক্ত বা বিচারাধীন ব্যক্তির সাথে নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ রোধ করার এবং আইনানুযায়ী সুরক্ষার সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। একই সাথে কারাবন্দী ও বিচারাধীন আসামিদের নিরাপত্তা ও পরিবহনের ক্ষেত্রে জেল কোড (PRB) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রযোজ্য হয়।
আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ পুলিশ বিভাগ এবং কারা কর্তৃপক্ষ আদালতের প্রাঙ্গণে বন্দীদের নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা ব্যবস্থাপনার প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োজিত।
শুনানিকালে পলক বিচারককে উদ্দেশ করে বলেন, লিফট চালু থাকা সত্ত্বেও তাঁকে হাতকড়া পেছনে দিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ছয়তলায় তোলা হয়েছে, যার জবাবে বিচারক এটি সুরক্ষার স্বার্থে করা হয়েছে বলে জানান।
পাল্টা জবাবে পলক এটিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত উল্লেখ করে হাতকড়া সামনের দিকে রাখার দাবি জানান এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর প্রতিও কিছু মন্তব্য ছুঁড়ে দেন।
তবে উক্ত মামলায় শুনানির দিন কারাগারে থাকা ১০ আসামির মধ্যে পলকসহ আটজনকে হাজির করা হলেও অন্য দুই আসামি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে থাকায় শুনানি পিছিয়ে আগামী ২৬ অক্টোবর পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালতের কার্যক্রম শেষে নিচে নামানোর সময় প্রহাৰাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে পলক অভিযোগ করেন যে কেবল তাঁদের বেলায়ই লিফট বন্ধ রাখা হয়।
পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ আদালতের অভ্যন্তরে আসামিদের আসা-যাওয়া ও নিরাপত্তার বিষয়টি পুনঃপর্যালোচনা করছে।
