আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে সমকামী (LGBTQ+) পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ও নথিপত্রের মাধ্যমে রাজনৈতিক বা মানবিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) গ্রহণের চক্রান্তে সহায়তার অভিযোগে তিন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে জালিয়াতির পথ বেছে নিয়েছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে প্রকাশ।
যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন Enforcement ও স্থানীয় পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম অ্যাক্ট ১৯৯৯’ (Immigration and Asylum Act 1999) এবং আন্তর্জাতিক শরণার্থী কনভেনশন ১৯৫১ অনুযায়ী মিথ্যা তথ্য, ভুয়া নথি বা প্রতারণার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।
যুক্তরাজ্যের হোম অফিস (Home Office), ইমিগ্রেশন ট্রাইব্যুনাল এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অ্যাসাইলাম আবেদন যাচাই-বাছাই ও জালিয়াতি প্রতিরোধের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজনৈতিক নিপীড়নের অজুহাতে ব্রিটেনে স্থায়ী হওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় বিএনপি ও জামায়াতের কিছু নেতাকর্মী বিকল্প হিসেবে সমকামী পরিচয়ের আশ্রয় নেন।
একটি সুসংগঠিত চক্রের সহায়তায় এই অবৈধ আবেদনকারীরা ভুয়া মেডিকেল সনদ, প্রশাসনিক চিঠিপত্র ও সামাজিক প্রমাণের ভুয়া নথি তৈরি করে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত তিন ব্যক্তির মধ্যে দুজন অতীতে বাংলাদেশে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এবং একজন বিএনপির সক্রিয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাজ্যের অভিবাসন বিভাগ আশ্রয় প্রক্রিয়ায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং প্রতারণামূলক সকল আবেদন পুনরায় খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক নীতি বজায় রেখে ভুয়া তথ্য প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ ও নিজ দেশে ফেরত পাঠাবার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
