ফোরটিন ডেস্ক : এক দশকেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে আসা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে নিজে উপস্থিত থেকে বিরল সম্মান জানালেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি বিমানবন্দরে গিয়ে বিদেশি কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে স্বাগত জানানোর এই ব্যতিক্রমী ঘটনা বিশ্ব কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই হাই-প্রোফাইল দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য সংঘাত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিরল খনিজ সরবরাহ এবং তাইওয়ান সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।
আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধ নৌচলাচল এবং সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের ভারসাম্য ও নিরাপত্তা বজায় রাখার সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় শীর্ষ দুই অর্থনীতির উন্মুক্ত আলোচনা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং হোয়াইট হাউজ যৌথভাবে সফররত চীনা প্রতিনিধি দলের সার্বিক নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় ভোজের প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করছে। পরাশক্তি দুটির মধ্যকার প্রযুক্তিগত বিধিনিষেধ ও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিরসনে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ বলবৎ রাখা হয়েছে।
সফরে নিজের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, “চীন ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন যুগে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পরিচালনার সঠিক পথ খুঁজে পেতে পারে বলে আমি আত্মবিশ্বাসী।”
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক শুল্ক কমানো ও বিশ্ববাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের আধিপত্য বজায় রাখা নিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ হওয়ার কথা রয়েছে।
শির সম্মানে হোয়াইট হাউজে বিশেষ নৈশভোজ ও জাতীয় আর্কাইভস পরিদর্শনের পাশাপাশি ট্রাম্প-মেলানিয়া দম্পতির সাথে চীনা ফার্স্ট লেডির একান্ত চা চক্রের আয়োজন রাখা হয়েছে।
বিশ্ব শান্তির স্বার্থে তাইওয়ান ইস্যু এবং বাণিজ্য যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিং কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আসন্ন বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ হবে আগামী দিনে বিশ্ব বাণিজ্য ও প্রযুক্তির নতুন সমীকরণ কীভাবে গড়ে উঠবে।
