ফোরটিন ডেস্ক : নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সামাজিক ব্যবসা, তরুণ প্রজন্ম ও প্রযুক্তি’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশ নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে নির্দিষ্ট হল ভাড়া করে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা, কূটনীতির ভাষা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে সামাজিক ব্যবসার বহুমাত্রিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এর পাশাপাশি ‘তিন শূন্যের পৃথিবী’ গড়ার লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী ডিসেম্বরে ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’ কার্যক্রম শুরু করার প্রত্যয় প্রকাশ করা হয়।
আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্ধারিত নিয়মাবলী ও জাতিসংঘ ভবনের ইভেন্ট পরিচালনা নীতি মেনে অনুষ্ঠানটির আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। বৈশ্বিক এনজিও ও প্রাইভেট থিঙ্ক-ট্যাঙ্কগুলোর নিজস্ব উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক শর্তাবলী বহাল রাখা হয়।
অনুষ্ঠানের আয়োজক ইউনূস সেন্টার এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ইভেন্ট কমিটি যৌথভাবে সেশনের স্থান ও সময়সূচি তদারকি করেছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হয়।
ড. ইউনূস তাঁর বক্তব্যে ক্ষুদ্রঋণের ৫০ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলেন, ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হওয়া ‘গ্রামীণ আমেরিকা’ কর্মসূচি আজ আট বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ বিতরণ করেছে, যার মাধ্যমে উন্নত বিশ্বেও প্রান্তিক মানুষ উপকৃত হচ্ছে।
তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা মানুষকে চাকরিপ্রত্যাশী বানায়, অথচ মানুষ জন্মগতভাবেই উদ্যোক্তা; দারিদ্র্য ও কার্বন নিঃসরণমুক্ত বিশ্ব গড়তে আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান এবং তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা। তবে একই ইভেন্টে জাতিসংঘের পূর্ব নির্ধারিত মূল কার্যসূচি কিংবা বিশ্বনেতাদের প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না।
তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য দূরীকরণে ড. ইউনূসের সামাজিক ব্যবসার এই দর্শন আন্তর্জাতিক অতিথিদের মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সবশেষে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে তুলনামূলক বড় পরিসরে ইভেন্টটি আয়োজন করতে পারাকে নিজেদের কার্যক্রমের বড় সাফল্য ও অগ্রযাত্রা হিসেবে আখ্যা দেন আয়োজকেরা।
