ধরেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরলেন। ফেরার পর স্বৈরাচারী তারেক রহমান তাকে গ্রেফতার বা অন্তরীণ করলেন।
গ্রেফতার বা অন্তরীণ নেত্রী আর কথা বলতে পারবেন না, নির্দেশ দিতে পারবেন না। গত ২ বছর দলকে চাঙা রেখেছেন তিনিই কথা বলে নির্দেশ দিয়ে।
এখন অন্তরীণ হবার আগে প্রেসিডিয়াম কোন সদস্যকে মুখপাত্র বানালেন। ধরেন ওবায়দুল কাদের, বা শেখ সেলিম, বা জাহাঙ্গীর কবীর নানক শেখ হাসিনার পরিবর্তে আপনাদের আদেশ, নির্দেশ, অনুরোধের দায়িত্ব পেলেন। আপনার কি মনে হয় মাঠ পর্যায়ের, বিদেশের এই মুহুর্তে চরম স্পিরিটেড নেতা-কর্মী-এক্টিভিস্টরা সমানভাবে মোটিভেটেড থাকবে?
আর ধরেন শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পেলেন পুতুল বা জয়। সেটা কেমন হবে?
শেখ হাসিনা কথা বলতে না পারলে আপনি কার কথা শুনতে চান? গঠনতন্ত্রে যা বলা আছে তাই হবে টাইপের ছাগলামি উত্তর শুনতে আমি আগ্রহী না। গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করা যায়। ওইটা কোরআন না। আমি শেখ হাসিনা, বা পুতুল বা জয়ের কথা শুনতে আগ্রহী, তাদেরই দলের নেতা মানতে আগ্রহী।
আমি বা দেশের ৮ কোটি মানুষ আওয়ামী লীগের বেতনভুক্ত কর্মচারী না। আমরা আওয়ামী লীগ করি; কারণ বাংলাদেশের জন্য আমরা আওয়ামী লীগকে উপযুক্ত মনে করি। আর আমরা মনে করি আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে সার্ভ করার উপযুক্ত থাকবে শেখ হাসিনা বা পুতুল বা জয়ের নেতৃত্বে।
এই বিষয়ে কথা বলা যাবে না, আলাপ করা যাবে না, মহাভারত অশুদ্ধ হবে এইসব চামচামির দিন শেষ। আলাপ আলোচনা করতে হবে। শেখ হাসিনা নিশ্চয় চিন্তা করছেন। কিন্তু ৮ কোটি নন-বেনেফিসিয়ারি সমর্থকরা কী ভাবছে সেটাও জানতে হবে।
জিহ্বা বের করা, লোল ফেলানো ৫০০ মানুষ যারা সুবিধাভোগী ছিল, সামনে হবে তারা জি হুজুর জি হুজুর করবে, কারণ তাদের কোন উপায় নাই। কিন্তু বাকি ৮ কোটি মানুষ আওয়ামী লীগের দাস না। বরঞ্চ আওয়ামী লীগ আমাদের কাছে নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য।
আগামীতে মোহাম্মদ হারুন আল রশিদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী না হয়ে আবুল হাসান হলে তো আমি সোনামুখ করে বসে থাকব না। আপত্তি করব। নওফেল ভাল দায়িত্ব না পেয়ে তাপস পাইলে তো আমি খুশী হবো না। আমি সেই অখুশীর কথা জানাব।
আমি তো বাংলাদেশের কাছে প্রথমে দায়বদ্ধ। আর বাংলাদেশকে সার্ভ করার জন্যই আমি আওয়ামী লীগকে সমর্থন করি।
আশা করি ডিসেম্বরের আগেই পুতুল বা জয়ের প্রেসিডিয়াম ঢোকার ঘোষণা আসবে। সেটা মিটিং সিটিং যা করার গঠনতন্ত্র মেনে করা হোক।
জয় বাংলা।
শামীম আহমেদ
অক্টোবর ৪, ২০২৬
