নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :
রাজধানীর পুরান ঢাকার বাংলাবাজারে দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) শোরুমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই বিক্রিতে জবরদস্তিমূলক বাধা ও কর্মীদের পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে রাখার প্রতিবাদে মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাসবিষয়ক প্রায় ৩০০ বইয়ের পিডিএফ ফাইল সর্বসাধারণের জন্য অনলাইনে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সোমবারের ওই বিতর্কিত মব পুলিশিংয়ের প্রতিক্রিয়ায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পক্ষে শিশির ওয়াহিদ গুগল ড্রাইভ লিংকের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর লেখা বইসহ ঐতিহাসিক গবেষণা গ্রন্থগুলোর ডিজিটাল সংস্করণ সবার জন্য প্রকাশ করেন।
অসমাপ্ত আত্মজীবনী সহ মুক্তিযুদ্ধের ৩’শত বইয়ের গুগল ড্রাইভের লিংক
গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাংলাবাজার ইউপিএল শোরুমে দুজন ক্রেতা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি কেনাকাটার অজুহাতে দোকানে ঢুকে এটিকে অবৈধ ও নিষিদ্ধ দাবি করে হট্টগোল সৃষ্টি করেন।
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতার সুনির্দিষ্ট মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি কিংবা বিচারিক কোনো নিষেধাজ্ঞা ব্যতিরেকে আইন হাতে তুলে নেওয়া, দোকান বন্ধ করা বা বিক্রয়কর্মীদের বেআইনিভাবে ফরিদাবাদ পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ।
ঢাকা দেওয়ানি ও প্রশাসনিক আইন রক্ষা এবং বাংলাবাজার প্রকাশনা পাড়ার নিরাপত্তায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও স্থানীয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করেছে। মুক্তচিন্তা ও বই বিক্রির স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিতকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি বলবৎ রয়েছে।
ডিজিটাল ড্রাইভ লিংক উন্মুক্তকরণ প্রসঙ্গে শিশির ওয়াহিদ সামাজিক মাধ্যমে উল্লেখ করেন, “ভাষা, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিসংগ্রামের বই বিক্রিতে অন্যায্য বাধা এবং রাজনৈতিক কর্মীদের মব পুলিশিংয়ের প্রতিবাদেই ৩টি আলাদা ফোল্ডারে কুরআন, বাইবেলসহ বঙ্গবন্ধুর যাবতীয় ঐতিহাসিক বই উন্মুক্ত করা হয়েছে।”
ইউপিএল কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার তাদের এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ সরকার বা কোনো আদালতের নির্দেশে নিষিদ্ধ করা হয়নি এবং অহেতুক জবরদস্তি প্রকাশনা শিল্পের জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর।
একইসাথে দেশের ৩৬ জন বিশিষ্ট নাগরিক যৌথ বিবৃতিতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ শাস্তি এবং প্রকাশকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশনা পাড়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে বই বিক্রিতে বাধা দেওয়ার এই নজিরবিহীন ঘটনায় দেশের বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক ও সাধারণ পাঠকদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
ইউপিএল ও নাগরিক সমাজ অবিলম্বে মুক্তচিন্তার পরিসর বজায় রাখতে এবং প্রকাশনা খাতে অবৈধ হুমকি বন্ধে রাষ্ট্রের কার্যকরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
