নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘে দেওয়া বাংলা ভাষণ ও তাঁর বাংলা উচ্চারণ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে আপত্তিকর মন্তব্য এবং কটূক্তির অভিযোগে গোলাম কিবরিয়া লালন নামের এক স্কুলশিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক এলাকা থেকে প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ওই বাংলা শিক্ষককে আইনি হেফাজতে নেওয়া হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে, যখন দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাসে পড়ানোর সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘের সাম্প্রতিক ভাষণ ও তাঁর উচ্চারণভঙ্গি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের প্রচলিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং দণ্ডবিধির সুনির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সম্পর্কিত আপত্তিকর কটূক্তি প্রচার করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা সৃষ্টি করা কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। জনপরিসরে উসকানি রোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশাবলী বলবৎ রয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ ও দৌলতপুর থানা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে প্রাগপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সার্বিক তদারকি বৃদ্ধি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি অভিযোগটি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখতে আইনি অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবকদের জানায় যে, শিক্ষক লালন শ্রেণিকক্ষে রাষ্ট্রপ্রধানের কথা বলার ধরন নিয়ে কুরুচিপূর্ণ উক্তি করেন।
তবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে অভিযুক্ত শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালন জানান, “দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করার কারণে প্রধানমন্ত্রীর বাংলা উচ্চারণ কিছুটা অস্পষ্ট হয়েছে—আমি কেবল এটুকুই ব্যাখ্যা করেছিলাম, কোনো কটূক্তি করিনি।”
প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুজ্জামান মুকুল জানান, পরিচালনা পর্ষদের সভায় শিক্ষক অভিযোগটি অস্বীকার করলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
শ্রেণিকক্ষে রাজনৈতিক নেতার বক্তৃতা বিশ্লেষণকে কেন্দ্র করে শিক্ষক আটকের এই ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং বিদ্যালয়ে অসন্তোষ সৃষ্টির অভিযোগে ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
